Breaking News

হোমিওপ্যাথিক প্রাথমিক চিকিৎসা

যে কোন আকস্মিক দূর্ঘটানয় আঘাত প্রাপ্ত হওয়া বা যে কোন রোগের প্রাথমিক চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আপনি প্রয়োগ করতে পারেন।সঠিক স্হানে সঠিক ঔষধটি প্রয়োগ করতে পরলে সমুহ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। নিচে কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধের নাম ও প্রয়োগ ক্ষেত্র দেয়া হলো।আপনি আপনার ঘরে উল্লেখিত ঔষধগুলো সংরক্ষন করুন।প্রয়োজনে অনেক ইপকারে আসবে।

*একোনাইট নেপিলাস(Aconite)

যেকোন রোগই হউক না কেন,যদি সেটি হঠাৎ শুরু হয় এবং শুরু থেকেই মারাত্মকরূপে দেখা দেয় অথবা দুয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেটি মারাত্মক আকার ধারণ করে,তবে একোনাইট হলো শ্রেষ্ট সদৃশ ঔষধ।যদি রোগের উৎপাত এত বেশী হয় যে,তাতে রোগী মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে।এক ফোটা বা ৫টি বড়ি করে রোজ তিন বেলা বা আরো ঘন ঘন খেলে রোগের প্রকপ কমে যাবে এবং পরে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।এর ফলে আপনি রোগের প্রথম অবস্হায়ই আরোগ লাভ করবেন অথবা রোগের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাবেন।সাধারণত ৩০ বা ২০০ শক্তি স্ট্যান্ডার্ড পাওয়ার আপনার ঘরে রাখুন।

 
*ক্যালেনডুলা অফ(Calendula Officinalis)
এই ঔষধটি আপনার ঘরে থাকা গুবই জরুরি।যে আঘাতের ক্ষততে তুলা দিয়ে লাগিয়ে দিবেন সেই ক্ষত হতে রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে।ক্ষততে পুজ হতে বাধা দিবে কোন প্রকার জটির রোগ বা ইনফেকশন প্রতিরোধ করবে।ক্যালেন্ডুলা মাদার আপনা ঘরে থাকলে বিপদে আপদে ভালো কাজে আসবে।


*নাক্স ভুমিকা(Nux Vomica)

নক্স ভুমিকা গ্যাস্ট্রিক,ক্ষুধা,বিষণ্নতা এবং মাইগ্রেনের সমস্যার জন্য নিরাপদে ব্যবহার করা যেতে পারে।যারা অধিকাংশ সময়ে পেটের অসুখে,বদহজমে ভোগে,বদমেজাজী,ঝগড়াটে, বেশীর ভাগ সময় শুয়ে বসে কাটান,কথার বিরোধীতা সহ্য করতে পারে না এবং অল্প শীতেই কাতর হয়ে পড়ে,এটি তাদের (জ্বর,কাশি,ডায়েরিয়া,আমাশয়-রক্ত আমাশয়, পেটব্যথা,মাথাব্যথা,বুকেব্যথা-শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি) ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।অধিকাংশ রোগ রাতের বেলা বেড়ে যায়।পান,সিগারেট,মদ-গাজা,ফেনসিডিল,হিরোইন দীর্ঘদিন সেবনে শরীরের যে ক্ষতি হয়,নাক্স ভমিকা তাকে পুষিয়ে দিতে পারে।পাশাপাশি এটি মদ,ফেনসিডিলের নেশা ছাড়তে ব্যবহার করতে পারেন।নাক্স ভুমিকা আপনার সংরক্ষনে থাকলে এবং পেটের পীড়ায় প্রথমে নাক্স ভুমিকা কয়েক মােো খেয়ে নিন সাথে সাথে আরোগ্য হবে।যদি আরোপগ্য নাও হৗ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে নাক্স ভুমিকা খেলে চিকিৎসকের চিকিৎসার অর্ধেক আপনিই সমাধান করতে পারবেন।
আর্ণিকা মন্ট(Arnica)
আমরা সবাই জানি যে, আঘাতের ব্যথার জন্য আনির্কা একটি শ্রেষ্ঠ ঔষধ।কিন্তু আনির্কা যে একটি শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক বা জীবাণু বিনাশী ঔষধ তা আমরা অনেকেই জানি না।মারাত্মক ইনফেকশনেও লক্ষণ থাকলে চোখ বুজে আনির্কা দিতে পারেন। সাধারণত যেকোন ধরনের আঘাত, থেতলানো,মচকানো,মোচড়ানো,ঘুষি, লাঠির আঘাত বা উপর থেকে পড়ার কারণে কোন ইনফেকশান বা ক্ষত হলে;এমনকি গ্যাংগ্রিন হলেও আনির্কা হবে তার শ্রেষ্ঠ সদৃশ ঔষধ।আনির্কার প্রধান প্রধান লক্ষণ হলো আক্রান্ত স্থানে এমন তীব্র ব্যথা থাকে যে,কাউকে তার দিকে আসতে দেখলেই সে ভয় পেয়ে যায়,কারণ ধাক্কা লাগলে ব্যথার চোটে তার প্রাণ বেরিয়ে যাবে।আপনার বাড়িতে বাচ্চা ছেলে মেয়েরা প্রায়ই নানা প্রকার আঘাত প্রাপ্ত হয়ে থাকে তাদের জন্য Arnica ঘরে রাখুন,এটি বেদনা হ্রাস,দুর্ঘটনা,আঘাতের এবং শক জন্য সবচেয়ে সাধারণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ।আর্ণিকাকে সকল প্রকার অঘাতের কারণে বেদনা আরোগ্যে কার্যকর।বাত বেদনা,মাংশ পেশির বেদনায়ও ব্যাহার্য।
*ক্যান্থারিস(Cantharis)

ক্যান্থারিস মলম আপনার রান্না ঘরে রাখুন।ক্যান্থারিস মাদারও রাখতে পারেন।যে কোন সময় আগুনের তাপে ঝলসে গেলে দ্রুত মলম অথবা মাদার টিঙ্কচার পানির সাথে মিশিয়ে দগ্ধ স্হানে লাগিয়ে দিন,দেখবেন ঝলসে যাওয়া স্হার জ্বালাপোড়া ভাব কমে গেছে।কোন প্রকার ফোস্কাও পরে নাই।যদি শক্তিকৃত ক্যান্থারিস রাখেন তবে ঘনঘন কয়েক মাত্রা সেবন করতে দিন দ্রুত আরাম পাবেন।

*ম্যাগনেসিয়া ফস(Magnesia phosphoric)
ম্যাগনেসিয়া ফস মহিলাদের জন্য আবশ্যকীয় ঔষধ।এটি মহিলাদের মাসিকের সময় বেদনাসহ,যে কোন রোগীর ক্লান্তি, মাথাব্যাথা,নার্ভ ব্যথা,অনিদ্রা এবং মানসিক প্রশান্তি দিতে সাহায্য করতে পারে।ম্যাগনেসিয়া ফস সাধারণত  নিম্ন শক্তি বেদনা আরোগ্যে ঘনঘন প্রয়োগ করতে হয়।
*রাসটক্স(Rhus tox)
Rhus tox পেশীর বাত,পিঠে বেদনা,আর্থথ্রিটিস,সাইটিকা এবং ফ্লু সম্পর্কিত শরীরের ব্যথাগুলির জন্যও উপকারী। বর্ষাকালে সর্দি জ্বর,উদরাময় সহ অনেক রোগের সদৃশ ঔষধ।বৃষ্টিতে ভিজে রোগাক্রান্ত হলে এবং রোগীর মাঝে অস্হিরতা দেখা দিলে রাসটক্স কয়েক মাত্রা সেবনেই রোগীর উপশম হবে।রাস টক্সের প্রধান প্রধান লক্ষণ হলো প্রচণ্ড অস্থিরতা, রোগী এতই অস্থিরতায় ভোগেন যে এক পজিশনে বেশীক্ষণ স্থির থাকতে পারে না,রোগীর শীতভাব এমন বেশী যে তার মনে হয় কেউ যেন বালতি দিয়ে তার গায়ে ঠান্ডা পানি ঢালতেছে, নড়াচড়া করলে (অথবা শরীর টিপে দিলে) তার ভালো লাগে অর্থাৎ রোগের কষ্ট কমে যায়, স্বপ্ন দেখে যেন খুব পরিশ্রমের কাজ করতেছে।বর্ষাকাল,ভ্যাপসা আবহাওয়া বা ভিজা বাতাসের সময়কার যে-কোন জ্বরে (বা অন্যান্য রোগে) রাস টক্স এক নাম্বার ঔষধ।রাস টক্স খাওয়ার সময় ঠান্ডা পানিতে গোসল বা ঠান্ডা পানিতে গামছা ভিজিয়ে শরীর মোছা যাবে না।বরং এজন্য কুসুম কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে।কেননা ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে রাস টক্সের একশান নষ্ট হয়ে যায়।কোন বস্তু উঠাতে গিয়ে কোমড় বেদনায় আক্রান্ত হন বা যাকে টাস উঠা বলে তার জন্য রাসটক্স প্রয়োগ করে সহজেই আরোগ্য লাভ করতে পারেন।

 
*বেলেডোনা(Belladonna )
যে-কোন রোগে যদি সারা শরীরে বা আক্রান্ত স্থানে উত্তাপ বেশী থাকে,যদি আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যায়, শরীর জ্বালা পোড়া করতে থাকে,তবে বেলেডোনা হলো তার শ্রেষ্ট ঔষধ। যে-কোন রোগের সাথে যদি রোগী প্রলাপ বকতে থাকে (অর্থাৎ এলোমেলো কথা বলতে থাকে),তবে বুঝতে হবে যে রোগীর ব্রেনে ইনফেকশান হয়েছে এবং এসব ক্ষেত্রে বেলেডোনা হলো তার সেরা ঔষধ।মাথা বেদনাসহ জ্বরে বেলেডোনাই প্রয়োজনিয় প্রাথমিক চিকিৎসা।

 
*প্লান্টেগো মেজোরা Plantago Major : দাঁত, কান এবং মুখের ব্যথায় প্লানটাগো মেজর এমন চমৎকার কাজ করে যে, তাকে এক কথায় যাদু বলাই যুক্তিসঙ্গত।যাদের সব সময় কান চুলকানোর অভ্যাস আছে তাদের জন্য পরামর্শ হলো কটন বাট প্লান্টেগো মাদার দিয়ে ভিজিয়ে কান পরিস্কার করবেন।কান চুলকানোর জন্য শুস্ক কটন বাট ব্যবহার করলে অনেক জটিল জটিল রোগ হতে পারে,তাই কানে কটন বাট দিবেন না।যদি দিতেই হয় প্লান্টেগো লাগিয়ে ব্যবহার করুন।
উপসংহারঃ
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা মতে চিকিৎসা করতে হলে তাকে অনেক নিয়মকানুন মেনে চলতে হয় কিন্তু আমার উপরোক্ত ঔষধগুলোর ব্যবহারে তেমন কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া নেই।প্রয়োজনের চেয়ে আরও বেশি পরিমাণে ডোজ নিষেধ।এছাড়াও সঠিকভাবে এই ওষুধ সংরক্ষণ করুন। আদর্শভাবে, হোমিওপ্যাথিক ওষুধটি সূর্যালোক বা চরম তাপ বা ঠান্ডা সরাসরি এক্সপোজার ছাড়াই একটি শীতল স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত।আমার উপস্হাপনা শুধুমাত্র সাধারণ লোকের প্রাথমিক চিকিৎসায় উৎসাহিত করার জন্য।কেহ প্রাথমিক চিকিৎসায় আরোগ্য না হলে অবশ্যই একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সাহায্য নিন।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *