Breaking News

মাদকের আসক্তি নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

আসক্তি কি?
মাদকদ্রব্য বলতে বোঝানো হয় যে,এমন দ্রব্য,যা খেলে নেশা হয়।এগুলো হোল গাঁজা,ফেন্সিডিল,চরস,ভাঙ,গুল, জর্দা,হেরোইন,পেথিদিন,মদ,ইয়াবা ইত্যাদি। যখন কেও এসব দ্রব্যাদির উপর নেশাগ্রস্থ হয়,তখনই তাকে মাদকাসক্ত বলা হয়।

কিভাবে মাদকাসক্ত হয়ঃ

  • কিশোর-কিশোরীরা কিভাবে নেশাগ্রস্থ হয়
  • বান্ধু বান্ধবের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।
  • বিজ্ঞাপনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।
  • ভুল তথ্য, হতাশা, কৌতূহলবশতঃ।
  • আদর্শ মনে করে এমন কার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।
  • স্মার্ট দেখানোর জন্য।

মাদকাসক্তির কুফল বা ক্ষতিকর দিকগুলোঃমাদকদ্রব্য শারীরিক,মানসিক,অর্থনৈতিক,সামাজিক ক্ষতি করে থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতিঃ

  • শেখার ক্ষমতা এবং কাজের দক্ষতা কমিয়ে দেয়।
  • বিচার-বিবেচনা, ভুল ঠিক বোঝার করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা।
  • আবেগ নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকেনা।
  • উগ্র আচরণের জন্ম দেয়।
  • মানসিক পীড়ন বাড়িয়ে দেয়, আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হয়।

শারীরিক ক্ষতিঃ

  • মস্তিষ্ক ও শ্বাসযন্ত্রের ক্ষমতা ও শরীরের সূক্ষ্ম অনুভূতি কমিয়ে দেয় এবং স্মৃতি শক্তি কমিয়ে দেয়।
  • স্বাভাবিক খাদ্য অভ্যাস নষ্ট করে।
  • যৌন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
  • এইডস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • হৃদরোগ সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

অর্থনৈতিক ক্ষতিঃ

  • পরিবারে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়।
  • স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খারচ বেড়ে যায়।
  • কর্মক্ষম জনশক্তি কমে যায়।

মাদকাসক্তির প্রতিরোধ ও এর প্রতিকার কিভাবে করা যায়ঃ

মাদক প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা,শিক্ষা, পরিমিত জীবন যাপন, বন্ধু নির্বাচন, দায়িত্বশীলতা ইত্যাদি মাদকাসক্তি প্রতিরোধ ও প্রতিকারের পথ।

মাদকাসক্ত নিরাময়কারী টিমের সদস্যরা হলেন (Team members):

১.মাদক আসক্ত ব্যাক্তি।

২. ব্যক্তিটির পরিবার।

৩. মাদকাসক্ত নিরাময়কারী প্রতিষ্ঠান।

৪. একজন কাউন্সেলর।

৫. ঘনিষ্ঠজন বা বন্ধুবান্ধব।
প্রাথমিক অবস্থায় (মাদকাসক্ত শুরুর প্রথম ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে যদি মাদকাসক্ত নিরাময়ের পরিকল্পনা নেয় যায় তবে খুব ভাল ফলাফল হয়।তবে কয়েক বছর যাবত মাদকাসক্তিও নিরাময় সম্ভব।
মাদকাসক্ত নিরাময়ের তিন রকম চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে (Medical Procedures):
ক. শুধুমাত্র ঔষধ সেবনের মাধ্যমে (Anti drug medicine)
খ. ঔষধ ও মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার মাধ্যমে ( Medicine and Counseling service)
গ. নিরাময় কেন্দ্রে থেকে ঔষধ ও মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার মাধ্যমে ( In house Medicine and counseling service)
একজন মাদকাসক্ত রোগী চিকিৎসা নেয়ার সময়ে পরিবার যেহেতু নিরাময়কারী টিমের সদস্য তাই পরিবারেরও বেশ কিছু দায়িত্ব রয়েছেঃ
প্রথমতঃ পরিবারের লোকজন একত্রে মাদকাসক্তি নিরাময় নিয়ে পড়াশুনা করবেন বা তথ্য সংগ্রহ করবেন। কারণ তথ্য না জানা থাকার কারণে ঘাবড়ে গিয়ে পরিবারের পরিবেশ ও শান্তি বিনষ্ট হয়।পরিবারটি সমাজের চোখে নিজেকে ছোট মনে করে হীনমন্যতায় ভুগে।
দ্বিতীয়তঃ মাদকাসক্ত ব্যক্তিটিকে ‘Addict’ বা ’নেশাখোর’ বলে গালমন্দ না করা।প্রত্যেকের ভুল আছে। আপনার পরিবারের এই সদস্যটিও ভুলের ঊর্ধ্বে নয়।তাই দোষারোপ না করে তার ভুলগুলো শুধরে নিতে তাকে সহযোগিতা করুন।
তৃতীয়তঃ মাদকাসক্ত নিরাময়ের চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী নিয়ম মানা এবং খাদ্যাভ্যাস ও জীবন-যাপনের পরিবর্তনের ব্যাপারে ব্যক্তিটিকে সহযোগিতা করুন এবং উৎসাহ দিন।
চতুর্থতঃ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী  একজন দক্ষ ডাক্তারের কাছে নিয়মিত কাউন্সেলিং নেয়া।


মাদকের আসক্তি নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা(Homeopathic treatment for cure of drug addiction)
মদ,গাঁজা,হিরোইন,ফেনসিডিল ইত্যাদি নেশাকর ড্রাগ যারা দীর্ঘদিন থেকে খেয়ে আসছেন,তাদের পক্ষে এগুলো হঠাৎ করে বন্ধ করা সম্ভব নয়।কারণ এতে শরীরে কিছু মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হয়।এই জন্য এসব ড্রাগ সেবনের পরিমাণ প্রতি সপ্তাহে একটু একটু করে কমিয়ে দিতে হবে।এভাবে আস্তে আস্তে তাদের পরিমাণ কমাতে কমাতে একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে।পাশাপাশি ড্রাগের পরিমাণ কমানোর ফলে শরীরে যে-সব অসুবিধার সৃষ্টি হয়,সেগুলো দূর করার জন্য ঔষধ খেতে হবে।দীর্ঘদিন নেশা করার পর চেষ্টা-তদ্বির করে পরবর্তীতে সেটি বন্ধ করতে সক্ষম হলেও সেই নেশার প্রতি অনেক বছর পরও একটা মারাত্মক আকর্ষণ থেকেই যায়।ফলে সুযোগ পেলে সেই নেশা আবারও শুরু করে দিতে পারেন।এজন্য নতুন কোন ভালো বিষয়ে নেশা সৃষ্টি করা দরকার। যেমন স্বামী স্ত্রী সন্তানদের ভালোবাসা,জ্ঞান অর্জনের নেশা,ইবাদতবন্দেগী,ভিডিও গেম,মানবসেবা,ছবিআঁকা, কমপিউটার, ফটোগ্রাফি, তাবলীগ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং ইত্যাদি ইত্যাদির নেশা সৃষ্টির মাধ্যমে অতীতকে ভুলে থাকার চেষ্টা করতে হবে।
 হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

Avena Sativa : হিরোইন,প্যাথেডিনের নেশা দূর করতে এভেনা সেটাইভা একটি শ্রেষ্ট ঔষধ।যারা হিরোইন বেশী পরিমাণে খান,তারা ধীরে ধীরে ইহার মাত্রা কমিয়ে আনুন এবং পাশাপাশি এভেনা স্যাটাইভা পনের ফোটা করে রোজ তিনবেলা করে খেতে থাকুন।পক্ষান্তরে যারা অল্প পরিমাণে হিরোইনপ্যাথেডিন নেন,তারা এগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিন এবং তার বদলে এভেনা স্যাটাইভা পঞ্চাশ ফোটা করে রোজ তিনবেলা খান।এতে কোন শারীরিক সমস্যা হবে না।সাধারণত এসব মাদকদ্রব্য হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে শরীরে যেসব মারাত্মক সমস্যা(withdrawal symptoms) দেখা দেয়,এভেনা সেটাইভা সেগুলোকে সফলতার সাথে সামাল দিতে পারে। এটি মাদার টিংচার (Q) শক্তিতে এবং আধা গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খাবেন।

Asarum europaeum :এসারাম ইউরোপেরাম শরীরের ওপর মদ ফেনসিডিলের প্রভাব কমিয়ে মদ্যপানের নেশা ছাড়তে সাহায্য করতে পারে।নিম্নশক্তিতে (Q,৩,৬ ইত্যাদি) ৫ থেকে ১৫ ফোটা করে রোজ তিনবার খেতে পারেন।হ্যাঁ,প্যাথেডিন,হিরোইনের নেশা ছাড়াতেও এটি একই মাত্রায় ব্যবহার করতে পারেন।

Nux vomica :মদ ফেনসিডিল দীর্ঘদিন সেবনে শরীরের যে ক্ষতি হয়,নাক্স ভমিকা তাকে পুষিয়ে দিতে পারে।
পাশাপাশি এটি মদফেনসিডিলের নেশা ছাড়তে ব্যবহার করতে পারেন।মাত্রা হবে নিম্নশক্তিতে(Q,৩, ৬ ইত্যাদি) ৫ থেকে ১০ ফোটা করে রোজ তিনবার।

Sulphuricum acidum : সালফিউরিক এসিড ঔষধটি মদ-ফেনসিডিলের নেশা ছাড়তে একটি অসাধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ঔষধ।সাধারণত দু’চার দিন খাওয়ার পর থেকেই মাদকাসক্ত ব্যক্তি মদ-ফেনসিডিলের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে।নিম্নশক্তিতে (Q, ৩, ৬ ইত্যাদি) ৫ থেকে ১০ ফোটা করে রোজ তিনবার দুই থেকে কয়েক সপ্তাহ খেতে পারেন।এমনকি নেশায় আসক্ত ব্যক্তি যদি ঔষধ খেতে না চায়,তবে তার মদ বা ফেনসিডিলের সাথে মিশিয়ে খাওয়ালেও কাজ করবে।তাছাড়া পানি,চা,দুধ ইত্যাদির সাথেও মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন।

Natrum Phosphoricum : নেট্রাম ফস ঔষধটি মরফিন, প্যাথেডিন এবং হিরোইনের নেশা বন্ধ করতে সাহায্য করে থাকে।নেট্রাম ফস নিম্মশক্তিতে (Q, ৩, ৬) দশ ফোটা করে রোজ তিনবার করে খেতে থাকুন এবং উল্লেখিত নেশাসমূহ প্রতি সপ্তাহে ধীরে ধীরে কমাতে থাকুন।তারপর এক সময় একেবারে বন্ধ করে দিন। দীর্ঘদিন সেবনের পর এসব নেশাদ্রব্য বন্ধ করলে শরীরের যে-সব সমস্যা হতে পারে,নেট্রাম ফস সেগুলোকে দূর করে দিবে।

Staphisagriaঃবিড়ি-সিগারেট অর্থাৎ ধূমপানের নেশা ছাড়াতে স্টেফিসেগ্রিয়া একটি শ্রেষ্ট ঔষধ।এটি ধূমপানের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দিয়ে সেটি বন্ধ করতে সাহায্য করে।

নেট্রাম মিউর (Natrum Mur)ঃঅত্যন্ত লবনপ্রীয় রোগীর এলকোহল পানের মাধ্যমে অসুস্থ হলে,শরীর স্বাস্হ্যহীন হলে সেই ভগ্ন স্বাস্হ্য ফিরাতে অলৌকিক কাজ করে।রক্তের কোষ উৎপাদন,অ্যালবুমিন এবং কোষের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য নেট্রাম মিউরের ক্ষমতা রয়েছে।দীর্ঘকাল ধরে অ্যালকোহল আসক্ত হয়েছে বা বিষণ্নতার শিকার হয়ে পড়েছে এমন লোকেরা সাধারণত নেট্রাম মিউর মাধ্যমে আরোগ্য পেতে সহায়তা পাবেন।
টেবেকাম(tabacum)ঃ নামক ঔষধটিও ধূমপানের নেশা দূর করতে সাহায্য করে।এটিও একই নিয়মে খেতে পারেন।ধূমপানের নেশা ছাড়াতে আরেকটি উৎকৃষ্ট ঔষধ।
 আর্সেনিক এলবম Arsenicum Arsenicum ঃ দীর্ঘ সময়ের জন্য অ্যালকোহলের উপর নির্ভরশীল যে কেউ আর্সেনিকাম ব্যবহার করে আরোগ্য লাভ করতে পারেন,বিশেষ করে যদি তারা উদ্বেগ পূর্ণমন,অস্হিরতা, মৃত্যুভয় বিদ্যমান থাকে তাদের জন্য আর্সেনিক এলবম উপযোগী।
ক্রোটালাস হরিডাসঃএলকোহলের নেশা থেকে মুক্তির জন্য ক্রোটেলাস একটি প্রয়োজনীয় ঔষধ।ক্রোটেলাসের নির্বাচক লক্ষণ যে এলকোহল সেবি রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তাকে প্রয়োগ করলে সে সুস্হ্য হবেন।
অতিরিক্ত চা পানের নেশা দুর করেঃ1.Thuja 2. China 3. Selenium।ইয়াবার জন্য Avena sativa Q আর গাজার জন্য Cannabis indica Q ঔষধটি খেতে পারেন।নিম্নশক্তিতে রোজ ২ বার করে খেতে পারেন।আলফালফা (Alfalfa Q) ঔষধটি সাতদিন খাবেন তারপর এভেনা সেটাইভা (Avena sativa Q) ঔষধটি সাতদিন খাবেন।এই হোমিও ঔষধ দুইটি এভাবে একটার পর আরেকটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ৩ মাস খাবেন । ২০ ফোটা করে প্রতিদিন দুইবেলা আধা গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খাবেন।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *