Breaking News

বিরক্তিকর পেটের সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

বিরক্তিকর পেটের সমস্যাঃ

Irritable bowel syndrome (আইবিএস) একটি সাধারণ ব্যাধি যা বড় অন্ত্র (কোলন) প্রভাবিত করে।রোগীর আন্ত্রিক লক্ষণ সাধারণত পেটে খিলধরা,পেটে ব্যথা,পেঠ ফাপা,পেটে বায়ু জমা,ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।আইবিএস দীর্ঘস্থায়ী পেটের পীড়া।যদিও লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি অস্বস্তিকর কিন্তু আইবিএস – কোলাইটিস এবং কোলনের রোগ ,যা প্রদাহজনক পেটের রোগের রূপগুলির মতো নয়।এটি অন্ত্রের টিস্যুতে পরিবর্তন বা কোলোরেকটাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় না।ক্ষতিকারক আন্ত্রিক লক্ষণসমুহ অল্প সংখ্যক লোকের গুরুতর লক্ষণ এবং উপসর্গ রয়েছে।এই রোগে মানুষ খাদ্য,জীবনধারা এবং মানসিকচাপ নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে তাদের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।অন্যদের ওষুধ ও কাউন্সেলিং প্রয়োজন হয়।

কারণঃ –

এটি নিশ্চিত করে বলা যায় না যে কোন কারণে আই বি এস হয়,কিন্তু বিভিন্ন কারণে আই বি এস হওয়ার জন্য ভূমিকা রাখে।অন্ত্রের দেয়ালগুলি পেশীগুলির স্তরগুলির সাথে রেখাযুক্ত যা সমন্বয় যুক্ত ভাবে এবং শান্ত হওয়ায় তারা আপনার পেটে থেকে মলদ্বারে খাদ্য সরায়।আপনার পেটে যদি জ্বালাপোড়া থাকে তবে সংকোচনগুলি শক্তিশালী হতে পারে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে,যার ফলে গ্যাস,পেটফুলে ও ডায়রিয়া হতে পারে বা এর বিপরীতও হতে পারে,দুর্বল অন্ত্র সংকোচন খাদ্য উত্তরণ হ্রাস এবং শক্ত,শুষ্ক মল হয়ে থাকে।আপনার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্নায়ুতন্ত্রের অস্বাভাবিকতাগুলিও ভূমিকা পালন করতে পারে,যা আপনার পেট গ্যাস বা মল থেকে প্রসারিত হওয়ার সময় স্বাভাবিক অস্বস্তি অনুভব করতে পারে।মস্তিষ্ক এবং অন্ত্রের মধ্যে খারাপভাবে সমন্বয়কৃত সংকেতগুলি আপনার শরীরকে সাধারণত পাকস্থলীর প্রক্রিয়াতে যে পরিবর্তনগুলি ঘটতে পারে তার উপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলতে পারে।এই অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া জনিত ব্যথা,ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

উদ্বেগজনক আন্ত্রিক রোগ বা আইবিএস এর লক্ষণ সমষ্টিঃ

১) পেট ব্যথাযুক্ত হয়(Spastic colon)।
২) সপ্তাহে অন্তত দুই দিনের অনিয়মিত মলত্যাগ।
৩) পরিবর্তিত ঘনঘন মলত্যাগহ(Functional diarrhoea )।
৪) মল প্রায়ই শক্ত ও খন্ডখন্ড পরে।
৫) পরিবর্তিত মল ত্যাগ,অসম্পূর্ণ মলত্যাগ।
৬) মিউকাসযুক্ত মল।
৭) পেট ফাপার অনুভূতি।
৮) পেট ব্যাথা ও অস্বস্তিকর অনুভূতি।

বেশিরভাগ রোগীর জন্য, আইবিএস একটি দীর্ঘস্থায়ী পেটের গোলযোগ,যদিও লক্ষণগুলি এবং উপসর্গগুলি খারাপ হয় আবার কখনও ভাল হয়ে যায়।এই রোগ প্রথমদিকে খুব জটিল না হলেও পরে দীর্ঘস্হায়ী ও জটিল আকার ধারন করে।তরুণ. আইবিএস ৪৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে বেশী ঘটতে থাকে।সামগ্রিকভাবে পুরুষের মতো প্রায় দ্বিগুণ মহিলাদের আইবিস দেখা যায়।আইবিএস একটি পারিবারিক ইতিহাস আছে।গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা আইবিএসের সাথে পরিবারের সদস্য আছে তারা এই অবস্থার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।আইবিএস একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। উদ্বেগ,বিষণ্নতা,ব্যক্তিত্বের ব্যাধি এবং শৈশবে যৌন নির্যাতনের ইতিহাস ঝুঁকির কারণ।মহিলাদের জন্য, গার্হস্থ্য নির্যাতন পাশাপাশি একটি ঝুঁকি কারণ হতে পারে।আইবিএস ঝুঁকি সম্পর্কিত পারিবারিক ইতিহাসের প্রভাব জিন সম্পর্কিত,পারিবারিক পরিবেশে বা উভয় ভাগের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।

জটিলতা – ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য,উভয় ক্ষতিকারক আন্ত্রিক সিন্ড্রোমের লক্ষণগুলি হরমোরিগুলিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।এ ছাড়া, যদি আপনি কিছু খাবার এড়াতে চান তবে আপনার প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুলি যথেষ্ট নাও হতে পারে যা দুর্ব্লতার দিকে পরিচালিত করে।জীবনের সামগ্রিক মানের অবস্থার প্রভাবটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা হতে পারে।আইবিএসের এই প্রভাবগুলি আপনাকে মনে করতে পারে যে আপনি সম্পূর্ণ জীবনযাপন করছেন না,হতাশা বা বিষণ্নতার পরিচয় প্রকাশ করে।

 হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

নক্স ভোমিকা(Nux Vomica)ঃ

রোগী অত্যন্ত অসহিষ্ণু,ভীষণ ক্রোধী,একগুয়ে জেদী,হিংষুক ও হটকারী।সামান্য শব্দে ও সামান্য ব্যাপারেই রেগে যায়।রোগী ফিটফাট পছন্দ করেেআগ বাড়িয়ে নেতৃত্ব দেয়।অতিরিক্ত মশলাযুক্ত গুরুপাক খাদ্য গ্রহন, মাংশ,অতিরিক্ত তেলে ভাজা দ্রব্য,কাচারিচ,ঝাল যুক্ত খাবার ও মাদক সেবন করে,এলাপ্যাথিক ঔষধ,জলাপ গ্রহনকারী রোগীর আইবিএস হলে নাক্সভুমিকা উপযোগী।পেটের যন্ত্রণা এবং অন্ত্রের সমস্যাগুলি,পেটে খিলধরা ,সংবেদনশীল,মৃদুতা এবং তীব্র বেদনায় নাক্সভুমিকার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করতে।পেটের প্রাচীরের পেশী গুলিতে ব্যথা,পাশাপাশি বেদনাদায়ক গ্যাস এবং বেদনা অনুভব।পেট উপর চাপ দিলে সামান্য আরাম বোধ।দরিদ্র ব্যাক্তির অন্ত্র রোগ,বারবার মলত্যাগের ইচ্ছা,মলত্যাগের পর আবারও মলত্যাগের ইচ্ছা,শল ত্যাগে অতৃপ্তি, উদরাময়,আমাশয় ও কোষ্ঠবদ্ধতায় নাক্স ভুমিকা উপযোগী,বিশেষ করে যারা অলস প্রকৃতির,বসে বসে খায় তাদের পেটের এই অস্বস্তিকর পেটের পীড়ায় নাক্স ভুমিকা প্রধান ঔষধ।

পোডোফাইলাম (Podophyllum)ঃ
পোডোফাইলাম পেটের পীঢ়ায় অত্যন্ক কার্যকর ঔষধ।টিউবারকুলার ও সোরিক ধাতুর রোগীর পাকস্হলি,অন্ত্র ও লিভারের কার্যে বিঘ্ন ঘটায়।ছেলেমেয়েদের দাঁত উঠার সময় উদারাময়ে প্রয়োজনীয় ঔষধ।মল অত্যন্ত দূর্গন্ধযুক্ত হয়।রোগীর যকৃতের বেদনায় সর্বদা অস্হির থাকে।রোগীল উদারাময় ও কোষ্ঠবদ্ধতা পর্যায়ক্রমে হয়।কোষ্ঠবদ্ধতা ও উদরাময়ের কারণে মলদ্বার ঝুলে পরে।রোগীর রোগ যন্ত্রনা বিকাল দুইটা হতে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত আরাম বোধ করে।রোগীর রোগ যন্ত্রনা রাত্রী দুইটা হতে দুপুর পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

সালফার(Sulfur)ঃ
সালফার সোরা ও সাইকোটিক রোগীর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ঔষধ।রোগী অত্যন্ত প্রবঞ্চক ও প্রতারক।কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলায় পটু।তার বানানো মিথ্যা কথা বুঝার উপায় নেই যে সে মিথ্যুক।চোর ডাকাত,ঠকবাজ রোগীর পীঢ়ায় প্রয়োগযোগ্য।রোগীর মলমূত্র ও ঘর্ম অত্যন্ত দূর্গন্ধযুক্ত।রোগী স্নান করিতে চাহে না স্নানে তাহার সকল রোগ যন্ত্রনা বৃদ্ধি পায়।রোগীর দুপুর বেলায় ক্ষুধা পায়।যদি রোগী বারটায় খাবার অভ্যাস থাকে তবে তার এগারোটায় ক্ষুধাপায়অমিষ্টি ও মাংশ কাইতে বেশী পছন্দ করে।সে অনেক সময় ঝাল ও মদক দ্রব্য খাইতে পছন্দ করে।সে ডান কাতেই বেশী ঘুমায় ও উচু বালিশে শয়নে অভ্যস্হ।রোগীর সকল রোগেই জ্বালা বোধ করে।রোগীর মল অত্যন্ত লম্বা ও ন্যাড়া হয়ে থাকে।কোষ্ঠ বদ্ধতা ও উদরাময় উভয়ই হতে পারে তবে মলে দূর্গন্ধ ও মলদ্বার হেজে যাওয়া ও ফেটে যাওয়ার লক্ষণ বিদ্যমান।রোগীর রোগ যন্ত্রনা উত্তাপযুক্ত আবহাওয়ায় ও ডান পাশে শয়নে ভালো থাকে।রোগীর রোগযন্ত্রনা দাড়িয়ে থাকলে ,শয়নে,আবহাওয়া পরিবর্তনে স্হান পরিবর্তনে বৃদ্ধি পায়।সকালে ঘুম ভাঙ্গার পরে উদরাময়,মলত্যাগের চাপে দ্রুত শয্যাত্যাগ করে।মলবেগ মুটামুটি পাচ ঘন্টা স্হায়ি হয়।উদারাময় দিনে কয়েকবার আসতে পারে।

আর্জেন্টিনা নাইট্রিকাম(Argentum nitricum)ঃ
এটি একটি গভীর সোরিক,সাইকোটিক ও টিউবার কুলার ধাতুর রোগীর জন্য উপযোগী ঔষধ।যে রোগীর পূর্বপুরুষজাত সাইকোটিক রোগী,তাদের জন্য উপযোগী।রোগীর মণটি অত্যন্ত ভীরু,উৎকন্ঠাযুক্ত,বিশেষ করে ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকন্ঠা সবসময় থাকে।আর্জেন্ট নাইট্রিকামের রোগীর মনটি দূর্বল যে কারণে কোন কাজেই স্হির সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারে না।আর্জেন্ট নাইট্রিকামের রোগী অহেতুক ব্যাস্ততা,উৎকন্ঠা,ব্যাকুলতা ও ভয় ইহার মর্মবাণী।রোগী ব্যস্ততার কারণে সময় যেন কাটতে চায় না।রোগীর রোগ যন্ত্রনা রাত্রীতে আবদ্ধ ঘরে, রৌদ্রে,গ্রীষ্সকালে বৃদ্ধি হয়।আর্জেন্ট নাইট্রকামের রোগীর পাকস্হলীর লক্ষন সমুহ বড়ই অদ্ভুত।রোগী মিষ্টদ্রব্য চিনি গুড় ইত্যাদি খাইতে পছন্দ করে,কিন্তু মিষ্ট দ্রব্য সহ্য করতে পারে না,রোগ বৃদ্ধি পায়।মলের রং সবুজ বা মলত্যাগের কিছুক্ষণের মধ্যেই সবুজ হয়।পেটে ঢেলার মত কি যেন আছে বলে মণে হয়।পেটের বেদনা হয়,বেদনা আস্তে আস্তে বারে এবং আস্তে আস্তে কমে।Bloating, flatulence rumbling,বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া হঠাৎ,তীব্র হতে পারে।পানি পান করার পরে ডায়রিয়া আসতে পারে।

এসাফোডিটা(Asafoetida)ঃ
ক্ষতিকারক ট্র্যাক্টের পাশাপাশি সংকোচনের অনুভূতি (বিশেষত যদি অন্ত্রের মধ্যে পেশী সংকোচন এবং ক্ষতিকারক অনুভূতিগুলি ভুল পথে চলছে বলে মনে হয়) দৃঢ়ভাবে এসাফোডিটাকে নির্দেশ করে।রোগীর মনে হতে পারে যে বুদবুদটি গলাতে আটকে আছে,অথবা একটি গোলা পেট থেকে উপরে চলে যাচ্ছে।পেটের ভেতরে বায়ূ জমার অনুভূতি থাকে, রোগীর ঢেকুর উঠার পরেও মনে শান্তি পায় না।কোষ্ঠকাঠিন্য অবস্হায় পেটে যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়।মাঝে মাঝে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।মলে অত্যন্ত দূর্গন্ধ ও বমি হয় বমিতে মল বা মলের গন্ধ দেখা দিলে এসাফোডিটাকে স্মরণ করা যায়।

কলোসিন্থ (Colocynthis)ঃ
এই ঔষধটি স্বল্পস্হায়ী,গভীর কার্যকরী ঔষধ নয়।রোগী সামান্যতেই অপমানিত বোধ করেন।অপমান সহ্য করিতে না পেরে অসুস্হ হয়ে পরেন।অপমানের যন্ত্রনার কারণে উদরাময়,আমাশয় হলে কোলসিন্থ উপযোগী।পেটের বেদনা কর্তনবৎ,খীলধরা বেদনায় রোগী দ্বীভাজ হয়ে পরে।পেটে চেপে ধরলে আরাম বোধ করে।রোগী চুপ করিয়া থাকতে পারে না।অস্হিরতায়ও আরাম পায় না।রোগীর পেটে যতক্ষণ খাদ্য থাকে ততক্ষণ বমি করতেই থাকে।রোগী সন্মুখ দিকে ঝুকিয়া থাকিলে আরাম বোধ করে।রোগীর রোগ যন্ত্রনা বিকাল চারটা হতে রাত্রী আটটা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।পেটের আইবিএস যদি বিরক্তি,ক্রোধ,অপমান,আলু খাওয়ার কারণে হয়ে থাকে তবে কোলসিন্থ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।

লিলিয়াম টিগারিনাম(Lilium tigrinum)ঃ

রোগী ক্রন্দনশীল তাহার অভ্যন্তরীন যন্ত্রসমুহের স্হানচ্যুতির অনুভূতিটি তাকে অস্হির করিয়া ফেলে।ক্ররন্দনশীল,উদাশীনতা,বিমর্ষতায় ও সে লোক সঙ্গ পছন্দ করে।রোগীর নানাবিদ অস্হিরতার কারণে উদরাময় হলে উপযোগী।রোগী অস্হিরতার করণে রাত্রিতে ছটফট করে এবং সকালে উদরাময় হলে উপযোগী।মলদ্বারে একটি ঢিবি বা গোলা প্লাগ করা আছে বলে মনে করে।

লাইকোপোডিয়াম(Lycopodium)ঃ
লাইকোপোডিয়াম একটি এন্টি সোরিক,এন্টি সাইকোটিক ও এন্টি সিফিলিটিক ঔষধ।যে রোগীরা মানসিক বৃদ্ধি হয়েছে কিন্তু শারীরিক ভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত নয়,শরীর ক্ষীণ,দূর্বল তাদের জন্য উপযোগী।লাইকোর রোগীর স্মৃতি শক্তি কম,ভীতু, একা থাকতে ভয়,কৃপন,লোভী ও ঈর্ষাপরায়নএরাগীর রোগ যন্ত্রনা বিকাল চারটা তে রাত আটটার মধ্যে বৃদ্ধি।রোগী শীতকাতর ঠান্ডায় সকল রোগ বৃদ্ধি।পেটের পীড়ায় গরম চা,গরমদুধ গরম পানি পানে আরাম বোধ করেণ।রোগী যা খায় তাই বায়ূতে পরিনত হয়।রোগীর পাকস্থলির ফাপা,পেটুক ও লোভী।রোগী বসা কিম্বা শোয়া অবস্হায় পা দুলায়।রোগী পেট ফাপার সাথে অস্বস্তি বোধ থাকে।মিষ্টি ও টকমিশ্রিত খাদ্য খেতে পছন্দ করে।

নেট্রাম কার্বনমিক(Natrum carbonicum)ঃ
নেট্রাম কার্ব একটি সুগভীর সোরিক ও সাইকোটিক ঔষধ।নেট্রাম কার্বের রোগীর মনটি অতিশয় বিমর্ষ ও ক্রোধপূর্ণ সাথে ব্যাকুলতা,উৎকন্ঠা,প্রীয় আপন জনের প্রতিও উদাসীনতা।রোগীর মাঝে চহ্চলতা ভাবটি বিদ্যমান এবং সঞ্চালনায় আরাম বোধ করে।কোন কিছুতেই সে মন স্হির করতে পারে না।অলস বসে থাকে কাজের প্রতি তার আগ্রহ কম।রোগীর সন ও দেহ ধ্বংশের দিকে চলতে থাকে।রোগী অতিমাত্রায় শীতকাতর,ক্তিু শীতের দিনে সূর্যতাপ সে সহ্য করতে পারে না।রোগী সালফারের রোগীর মত দুপুর এগারটায় ক্ষুধা পায়।আহার না করা পর্যন্ত উৎকন্ঠায় থাকে।রোগী খাওয়ামাত্র পেট ফাপে ও উৎকন্ঠা বৃদ্ধি পায়।রোগীর ভুক্ত দ্রব্য হওয়ার আগ পর্যন্ত উৎকন্ঠা ভাব বিদ্যমান থাকে।রোগীর মন তেকে কখনও উৎকন্ঠা কখনও দুর না হওয়ার অবস্হাটি আইবিএস রোগীর জন্য নির্বাচন লক্ষণ।রোগী দুধ সহ্য করতে পারে না।দুধ খেলে উদরাময় ও গ্যাস জমে।নেট্রাম কার্বের রোগীর সকল লক্ষণ সান্তনায়, সহানুভূতি প্রদর্শনে,মানসিক পরিশ্রমে,গরম ঘরে,সমুদ্রতীরে,সঙ্গম করার পরে,বেলা নয়টা হতে এগারটায় রোগ বৃদ্ধি হয়।রোগী ডান পাশে শয়নে,উপবাসে,শক্তভাবে কাপড় পরিলে আরাম পায়।মুক্ত বাতাসে,অন্ধকারে,নির্জনে ও বিশ্রামে আরাম বোধ করে।

পালসেটিলা(Pulsatilla)ঃ
পালসেটিলা একটি এন্টি সোরিক ও এন্টি সাইকোটিক ঔষধ।পালসেটিলার রোগী বরই স্নেহ প্রবণ,শান্ত,বিনয়ী, ভদ্র ও ভীরু স্বভাব বিশিষ্ট।সামান্য ব্যাপারেই সংবেদনশীল ও ক্রন্দনশীল।সে সামান্য কথাতেই বেদনা পায়।রোগীর মনটি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল।পালসের রোগীর তৈলাক্ত খাদ্যের প্রতি আগ্রহ এবং তাতে উদারাময় হয়।উদারাময়ের মলের প্রকৃতিও পরিবর্তনশীল।রোগী অত্যন্ত গরম কাতর।উদরাময়ে জিহ্বা ও গলা শুকিয়ে যায় কিন্তু পিপাসা থাকে না।রোগী অত্যন্ত গরমকাতর,বন্ধ ঘরে তার দমবন্ধ হয়ে আসে।রোগীর দেহ অত্যন্ত গরম কিন্তু থার্মোমিটার দ্বারা তাপ বুঝা যায় না।রোগী যে সকল খাদ্র গ্রহনে পেটের পীঢ়ায় আক্রান্ত হয় সেই খাদ্র খাইতেই বেশী পছন্দ করে।সে শীতর পানীয়,লেমনয়েড পানি,চীজ,ঝাল,মশলা যুক্ত খাবার ,আইসক্রিম,চর্বিজাতীয় খাদ্য পছন্দ করে।এই সকল খাদ্য গ্রহনের ফলে নানা প্রকার পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়।হজম শক্তি দুর্বল।পেটের বিশৃঙ্খলার সাথে টক ঢেকুর উঠে এবং টক বমি করে।পালসেটিলার রোগী মাংশ,মাখন,চর্বি,দুধ,শুকরের মাংশ খেতে অপছন্দ করে।রোগীর সকল যন্ত্রণা মুক্ত বাতাসে,আক্রান্ত পার্শে শয়নে,শীতল বাতাসে,শীতল ঘরে ও শীতল প্রয়োগে আরাম পায়।রোগীর সকল যন্ত্রনা বদ্ধ ঘরে,সন্ধ্যাকালে,গোধুলীর সময়,প্রথম সঞ্চালনে,বাম পার্শে শয়নে,ঘৃত,মাখন,দুধ,পোলাও,উত্তাপ প্রয়োগে বৃদ্ধি পায়।


সাইলেসিয়া(Silicea)ঃ

সাইলেসিয়া একটি এন্টি সোরিক,এন্টি সাইকোটিক,এন্টি সিফিলিটিক ঔষধ।এই রোগীদের দেহে অন্য মানুষের শলীরের থেকে তাপমাত্রা কম থাকেতাদের গায়ে হাত দিলে হীমশীতল মনে হয়#।তাদের মাংশপেশী ঠিলা মনে হয়।মুখমন্ডল চিকন,ফ্যাকাশে ও ক্লান্ত মনে হয়।মাথার খুলির জোড়াগুলি সংযুক্ত নয়।মাথার তালু তুলতুরে থাকে।দেহের হাড়গুলো অপুষ্ট,মাথায় প্রচুর ঘর্ম হয় এবং বালিশ ভিজে যায়।সাইলেসিয়ার রোগী একা থাকতে ভয় পায়।সাইলে সিয়ার রোগীর শেষ সাফল্যের প্রান্তে এসে হতাশঅয় ভুগে এবং বিফল হৗয়রি আশংকায় রোগাক্রন্ত হয়ে পরে।রোগীর মানসিক পরিশ্রম করার সামর্থ কমিয়া যায়।রোগীর মুখমন্ডল,হাত পা ঘামতে থাকে।সাইলেসিয়ার রোগী অত্যন্ত শীতকাতর।টিকার কুফলে রোগীর নানাবিধ প্রয়োজনে সাইলেসিয়া গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।কোষ।ঠবদ্ধতার সাথে মলদ্বারে ফোড়া সহ অনেক জটিল রোগের ক্ষেত্রে সাইলেসিয়া একটি প্রয়োজনীয় ঔষধ। কোষ্ঠবদ্ধতা,মলত্যাগে কষ্ট,মলদ্বারের নানাবিধ পীঢ়ায় উপযোগী।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *