Breaking News

প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: ডায়াবেটিস কাদের হতে পারে?
উত্তরঃ যে কেউ যে কোন বয়সে যে কোন সময় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে তিন শ্রেণীর লোকের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বেশী থাকে।
১) বংশগত, যেমনঃ বাবা, মা বা রক্ত সর্ম্পকিত নিকট আত্নীয়ের ডায়াবেটিস আছে।
২) যাদের ওজন অনেক বেশী; ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করে না।
৩) বহুদিন ধরে কর্টিনোল জাতীয় ঔষধ সেবন করলে।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিস কি কি অবস্থায় প্রকাশ পাওয়ার সম্ভবনা থাকে?
উত্তরঃ শারীরিক স্থুলতা, গর্ভাবস্থায়, যে কোন ক্ষত, আঘাত, অস্ত্রোপাচার, মানসিক বিপর্যয়, রক্তনালীর অসুস্থতার কারণে হঠাৎ করে মস্তিষ্কের রোগ।

প্রশ্ন: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস হতে কি ধরণের বিপদ হতে পারে?
উত্তরঃ পক্ষাঘাত, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা, হৃদরোগ, পায়ে পচনশীল ক্ষত, চক্ষুরোগ, মূত্রাশয়ের রোগ, প্রস্রাবে আমিষ বের হওয়া, পরবর্তীতে কিডনীর কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া। এছাড়াও পাতলা পায়খানা, যক্ষা, মাড়ির প্রদাহ, চুলকানি, ফোঁড়া, খোস পাঁচড়া, রোগের কারণে যৌনশক্তি কমে যাওয়া। মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশী ওজনের শিশু, মৃত শিশুর জন্ম, অকালে সন্তান প্রসব, জন্মেও পরই শিশুর মৃত্যু এবং নানা ধরণের জন্ম ক্রটি দেখা দিতে পারে।

প্রশ্ন: কিভাবে বুঝবেন আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে?
উত্তরঃ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা বুঝার উপায় হল রক্তের শর্করা বা গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা। যদি খালি পেটে রক্তের শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা ৬.১ মিলি/লিটার থাকে এবং খাওয়ার পর ৮.০ মিলি/লিটার পর্যন্ত হয়, তবে ডায়াবেটিস খুব ভাল নিয়ন্ত্রণে আছে। খাবারের পর রক্তে শর্করার বা গ্লুকোজের মাত্রা ১০.০ মিলি/লিটার পর্যন্ত হলে ডায়াবেটিস মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে করতে হবে। রক্তে শর্করার মাত্রা এর চেয়ে বেশী হওয়ার অর্থ হল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিস কি সারানো যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগ সারানো যায়। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ডায়াবেটিস খুব ভালভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রায় স্বাভাবিক কর্মঠ জীবন যাপন করা যায়।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসে ওজন বেশি থাকলে কমাতে হয় কেন?
উত্তরঃ ডায়াবেটিসের রোগীদের নিয়মিত পরিশ্রম বা ব্যায়াম পাশাপাশি খাদ্য অভ্যাসে পরিবর্তন এনে ওজন কমানো জরুরী। বিশেষ করে, যাহারা টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ওজন কমানোর সঙ্গে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসার ও ডায়াবেটিসের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার আশঙ্কা কমে আসার সর্ম্পক রয়েছে। ডায়াবেটিসের সাথে রক্তচাপের আধিক্য থাকলে, বাড়তি ওজন কমালে ঔষধ না খেয়েই রক্তচাপ অনেক সময় স্বাভাবিক হয়ে আসে। ওজন কমালে রক্তে লিপিডের মাত্রাতেও পরিবর্তন আসে। ওজন বেশি এমন বয়স্ক রোগীদের ওজন কমানোর বিকল্প নেই। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এতে করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং দীর্ঘদিন সুস্থদেহে বেচেঁ থাকার সম্ভবনা রয়েছে।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসে খাদ্য অভ্যাসে নিয়ম মানা কি জরুরী?
উত্তরঃ হ্যাঁ! অবশ্যই। ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য অভ্যাসে নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। এছাড়াও নিয়ম কানুন মেনে চললে ডায়াবেটিসের অনেকাংশ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। টাইপ ১ রোগীদেরকে কিছু নিয়ম পালন করতে হয় এবং টাইপ২ তাদের আলাদা নিয়ম পালন করতে হয়। ডায়াবেটিসে খাওয়া দাওয়া নিয়ম কানুন মেনে চলার কোন বিকল্প বলতে কিছুই নেই। ভুললে চলবে না। ডায়াবেটিস রোগীর খাবার হল স্বাস্থ্যকর খাবার এবং প্রত্যেক মানুষকে তা মেনে চলা উচিত। এছাড়াও নিয়ম অনুসারে খাওয়া দাওয়া এবং চলাফেরা করলে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসের রোগীদের বেশি ডায়েটারি ফাইবারযুক্ত খাবার খেতে বলা হয় কেন?
উত্তর: ডায়াবেটিসের রোগীদের ডায়েটারি ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণ উচিত। কেননা, রক্তের কেলোষ্টেরলের মাত্রা, শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং পাশাপাশি রক্তচাপের আধিক্য ও করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ডায়াবেটিসের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার হার কমায়। আমাদের দেশে ছোলা, মটর, ডাল, ফল ও শাক সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এছাড়াও আটা, চাল, ভুট্রা, ইসবগুলের ভূষি ও শাক সবজিতে ইনসল্যুবল ফাইবার থাকায় পাকস্থলীতে খাবারের আয়তন বাড়ায়। বার বার খিদে পাওয়ার প্রবণতাও কমে এবং কোষ্ঠবদ্ধতার সমস্যাও অনেক কমে যায়। আমাদের দেশে খাদ্য সামগ্রীতে যথেষ্ট পরিমাণ ফাইবার রয়েছে। প্রত্যেকদিন প্রচুর পরিমাণে শাক সবজি, একবার রুটি, একবার ডাল ও কিছুটা ফল খেলেই শরীরের জন্য যথেষ্ট ফাইবার। পেয়ারা ও আপেলে বেশ কিছুটা পেকটিন রয়েছে। তবে ফাইবার যুক্ত খাবার দৈনিক খাওয়া জরুরী।

প্রশ্ন: করলা, উচ্ছে, মেথি খেলে কি ডায়াবেটিসে উপকার হয়?
উত্তরঃ ডায়াবেটিস রোগীদের তেতোর রস খেলে উপকার হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়ম করে করলা, উচ্ছে, মেথি খেলে খুবই উপকার হয়। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন এ দেশের ডায়াবেটিসের রোগীদের প্রায় ৯৫%। ডায়াবেটিসের চিকিৎসা হল চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন আনা। এতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কোন ডায়াবেটিস রোগী এই খাবার গুলো খেয়ে মানসিক ভাবে ভাল থাকলে তিনি অবশ্যই খেতে পারেন।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসে ভাজাভুজি কম খেতে বলা হয় কেন?
উত্তরঃ ডায়াবেটিসে ভাজাভুজি বেশি খেলে ভোজ্য তেলের ব্যবহার বাড়ে; এতে ফ্যাট জনিত নানা রোগ দেখা দেবার সম্ভবনা রয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীদের স্নায়ুঘটিত জটিলতায় পাকস্থলীর সমস্যায় দেখা দিলে ভাজাভুজি খেয়ে গা- গোলানো ভাব, পেটফাঁপা, পেট ব্যথা হতে পারে। তাছাড়া, ডায়াবেটিসের রোগীর ধমনী সরু হয়ে হৃদরোগ বা অন্য জটিলতা দেখা দেবার সম্ভাবনা, ভোজ্য তেলের বেশি ব্যবহার বেশি ব্যবহার সেই জটিলতা গুলোর আশঙ্কা আরও বাড়ায়।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসে মেথি খাওয়া ভাল?
উত্তরঃ ডায়াবেটিসের রোগীদের পক্ষে মেথির ব্যবহার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সাহায্য করে বলে জানা গেছে। এটা বিজ্ঞান সম্মত গবেষণায় তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্কার মেথি গুঁড়ো করে খালি খোলায় ভেজে পিষে আটার সঙ্গে মিশিয়ে রুটি করে খাওয়া যেতে পারে। মেথিতে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড রক্তে ‘খারাপ কোলেষ্টেরল’ কমায়, বাড়ায় ‘ভাল কোলেষ্টেরল’। সামান্য মেথি নিয়মিত খেলে তাই করোনারি হৃদরোগ ও অ্যাথ্রেরোসক্লেরোসিসের অন্য জটিলতা দেখা দেবার সম্ভাবনা সবার ক্ষেত্রেই কমাতে পারে।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসের রোগীর কেক পুডিং পেষ্ট্রি চলবে কিনা?
উত্তরঃ না, এগুলো খাওয়া ডায়াবেটিসের রোগীদের পক্ষে ক্ষতিকর। কেক তৈরীতে প্রচুর মাখন ব্যবহার করা হয়। পেষ্ট্রি ও কেকে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্রিম। কেক ও পেষ্ট্রিতে তাই চর্বি খুব বেশি এবং বেশি কোলেষ্টরলের মাত্রা। প্রতি একশো গ্রাম ক্রিমে কোলেষ্টেরল থাকে ১২০মি.গ্রা। পুডিংয়ে দুধের মাখন ও ডিমের কুসুমের প্রচুর কোলেষ্টেরল থাকে। যত কম মিষ্টিই হোক, ডায়াবেটিসের রোগী কেক, পুডিং বা পেষ্ট্রি খাবেন না।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসে মধু খাওয়া চলবে কিনা?
উত্তর: না, চলবে না! মধুতে বেশ কিছু ভিটামিন থাকলেও এতে শর্করার পরিমাণ খুব বেশি। এই শর্করার শতকরায় প্রায় ৮০% হল গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ। চিনি বা রসগোল্লা খেলে যা হয়, মধু খেলে তত দ্রুত না হলেও রক্তে শর্করা বাড়ে তাড়াতাড়ি। ডায়াবেটিসের রোগীর পক্ষে এরকম ঘটনা আদৌ বাঞ্চনীয় নয়। তাই ডায়াবেটিসে চিনি, গুড় বা অন্য মিষ্টির মতো মধু খাওয়া চলবে না।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসের রোগী মিষ্টি ফল খেতে পারেন কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ! এখন ডায়াবেটিসের রোগীদের রোজ ৭৫ গ্রামের মত মিষ্টি ফল খেতে বলা হয়। ডায়াবেটিসের রোগী কোনও মিষ্টি ফল খেতে পারবেন না, এরকম ধারণা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে বাতিল হয়ে গেছে বহুদিন। শরীরের পক্ষে জরুরী ভিটামিন ও খনিজ লবণ গুলোর ঘাটতি মেটাতে যে কোনও ছোট বা মাঝারি ফল একটা ডায়াবেটিসের রোগী খাবেন। ফল যত টাটকা হয়, তত ভাল। তার জন্য মৌসুমি ফলের উপর গুরুপ্ত দিতে হবে। যেমন- কলা, সফেদা, আতা, পেয়ারা, কলমা লেবু ইত্যাদি। কলা বড় হলে অর্ধেক এবং মাঝারি হলে একটা। পাকা আমের মতো মিষ্টি ফলে সুক্রোজ থাকে খুব বেশি। পাকা আম তাই এড়িয়ে চলা উচিত। একদিনে একের বেশি ফল খাওয়া চলবে না, ফল খেতে হবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। শসা ডায়াবেটিসে যত খুশি খাওয়া চলে।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসের রোগী খাবারের সাথে কতটুকু লবণ খেতে পারবেন?
উত্তর: ডায়াবেটিসে দিনে ছয় গ্রাম পর্যন্ত লবণ খেতে পারবেন। রান্নায় পরিমিত লবণ ও বাড়তি লবণ এড়িয়ে চলা- সাধারণ ভাবে এটুকু করলেই চলে। খাওয়ার সময় লবণ তো বটেই, এড়িয়ে চলতে হবে নোনতা বিস্কুট, আলুর চিপস, চানাচুর, আচার, যে কোনও নোনতা ভাজা ইত্যাদি। ডায়াবেটিসের রোগীর ধমনীর ভেতর চর্বি জমে রক্তচাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। রক্তচাপ অধিক হলে করোনারি হৃদরোগ, সেরিব্রাল স্ট্রোক বা কিডনীর গোলযোগ সমস্যা দেখা দেবার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসের রোগীর এরকম জটিলতা থাকলে বা দেখা দিলে শুধু খাওয়া ও রান্নার বাড়তি লবণ এড়িয়ে চললে জটিলা অনেক কমে যাবে।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসে কোলেস্টেরল বেশি থাকলে কী খাওয়া যাবে?
উত্তর: ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে কোলেস্টেরল স্বাভাবিক মাত্রা ২৫০ মি.গ্রা পর্যন্ত চলে। কোলেষ্টেরল বেশি থাকলে এই মাত্রাকে ২০০ মি.গ্রামের নীচে নামিয়ে নিতে হবে। খাসির মাংস, বড় মাছের মাথা, যে কোনও প্রাণীজ চর্বি, চিজ, মাখন, নারকেল তেল এই সবে কোলেস্টরল মাত্রা বেশি থাকায় এগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়াও ক্রিম, ক্রিমযুক্ত দুধ, ডিমের কুসুম, ঘি প্রভৃতি এড়িয়ে চলতে হবে। শে^তসার ও প্রোটিনের বেলায় যা খেতে পারেন ডায়াবেটিসের রোগী সবই চলবে। পরিমিত ভাত, রুটি, প্রচুর শাক সবজি, টাটকা একটা ফল, ডাল, বিন, শসা, টমোটো, মাছ সবই চলবে। রান্নার তেলের ব্যবহার যেন দৈনিক ৩০ মিলি’র বেশি যাতে না হয়। নিয়মিত রক্ত, রক্তচাপ ইত্যাদি পরীক্ষার পাশাপাশি রোজ দু’ এক কোয়া রসুন খেতে পারেন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। কোলেষ্টেরল কমানোর ব্যাপারে রসুনের ভূমিকা রয়েছে তা পরীক্ষায় প্রমাণিত।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসের রোগী ফলের রস চলবে কিনা?
উত্তর: ডায়াবেটিসের রোগী রোজ টাটকা ফল খাবেন, ফলের রস নয়। কেননা, রস বানাতে গিয়ে ফলের ভিটামিন, খনিজ লবণ ও ফাইবারের একটা বড় অংশ ফলের ছিবড়ে বা রাফেজের সঙ্গে চলে যায়। মাঝে মধ্যে ইচ্ছে হলে ফলের বদলে রস খেতে পারেন, তবে রোজ রোজ নয়।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসের রোগী ডিম খাবেন কিনা?
উত্তর: ডায়াবেটিসের রোগী যাদের কোলেস্টরল মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে, তাহারা প্রতিদিন একটি করে ডিম খেতে পারেন। ডিম খেতে হবে পোচ বা সেদ্ধ করে, ভেজে বা ওমলেট করে নয়। ৬০ গ্রাম ওজনের একটি ডিম সেদ্ধ করলে বা পোচ করলে ৭০ কিলো ক্যালোরি পাওয়া যায়। ভাজলে বা ওমলেট করলে ১২০ কিলো ক্যালোরি পাওয়া যায়। ডায়াবেটিসের রোগী ডিম খেলে ক্যালোরি হিসাব করে খেতে হবে। ৬০ গ্রামের ডিমে প্রোটিন ও ফ্যাট দুটোই থাকে কম বেশি ছয় গ্রামের মতো। ডিমে রয়েছে বেশ খানিকটা ক্যালসিয়াম, আয়রণ, ও প্রায় সব ধরণের ভিটামিন। অল্প মাত্রায় রয়েছে কপার, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, জিংক ও অন্য খনিজ লবণ। যাঁদের শরীর স্থুল, রক্তে কোলেস্টরল মাত্রা ছাড়ানো, যারা করোনারী হৃদরোগে ভুগছেন এমন ডায়াবেটিসের রোগী সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশটা খাবেন, ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে। ডায়াবেটিসের রোগী ডিম খেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসের রোগী দুধ খাবেন কিনা?
উত্তর: ডায়াবেটিসের রোগী দৈনিক এককাপ করে দুধ খেতে পারেন। তবে এর বেশি দুধ খেলে ‘স্কিমড মিল্ক’ বা ননীতোলা দুধ খেতে হবে। তা ছাড়া দুধের ননীতে থাকা ফ্যাট ও কোলেস্টেরল ডায়াবেটিসে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরী। দুধের ক্রীম বা ননীর ক্যালোরি মূল্য খুব বেশি। ডায়াবেটিসের রোগীর দুধ খাওয়ার পরিমাণ তাঁর খাদ্য অভ্যাসের উপর নির্ভর করে এবং তা চিকিৎসক নির্ধারণ করে দিবেন। তবে এরকম রোগীদের জন্য দুধের বিকল্প হল ঘরে পাতা দই।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসের রোগী ছানা, পনির বা দই খাবেন কিনা?
উত্তর: ডায়াবেটিসের রোগী ছানা বা পনির রোজ রোজ নয়, মাঝে মধ্যে অল্প পরিমাণে খাওয়া যাবে। রোজ খাওয়া যেতে পারে ছোট একবাটি ঘরে পাতা দই। গরুর দুধে ছানা বা পনিরে প্রোটিন ও ফ্যাট খুব বেশি। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য দই হল দুধের সুন্দর বিকল্প, বিশেষ করে যারা নিরামিষ খান তাদের জন্য। দুধের প্রোটিন, ফ্যাট ও শর্করা (ল্যাকটোজ) দইতে প্রায় অবিকৃত থাকে। দইতে থাকা ল্যাকটোব্যাসিলাস ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধে দইয়ের কিছু ভূমিকা থাকলেও থাকতে পারে।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসের রোগী লুচি, পরোটা, ফ্রায়েড রাইস, পোলাও বা বিরিয়ানি খেতে পারবে কিনা?
উত্তর: না, ডায়াবেটিসের রোগী এসব খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলা দরকার। এসব খাবার তৈরী করতে প্রচুর পরিমাণে ঘি ও তেল ব্যবহার করা হয়। ঘি ডায়াবেটিসে একেবারে নিষেধ। ভোজ্য তেল খাওয়া চলে দৈনিক ৩০ মি.লি পর্যন্ত। তাছাড়া, লুচি, পরোটা, পোলাও বা বিরিয়ানীতে ক্যালোরি মূল্য খুব বেশী। শুধু ডায়াবেটিসের রোগী কেন, যে কোন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরের জন্য লুচি পরোটার বদলে রুটি, তেল ঘি চুপচুপে পোলাও বিরিয়ানী ও ফ্রায়েড রাইস এর বদলে সাদা ভাত অনেক স্বাস্থ্যসম্মত।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসের রোগী আলু খেতে পারবেন কিনা?
উত্তর: হ্যাঁ, আজকাল ডায়াবেটিসের রোগীকে আলু খেতে দেওয়া হয়। তবে, অল্প পরিমাণে আলু খেতে হবে। ১৫০ গ্রাম শে^তসার কোনও রোগীর বরাদ্দ হলে তিনি ১০০ গ্রাম ভাত, রুটি খেয়ে ৫০ গ্রাম আলু অনায়াসে খেতে পারেন।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসের রোগী শাকসবজি বেশি খাওয়া দরকার কেন?
উত্তর: শে^তসার খানিকটা নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিসের রোগীকে শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে খেতে বলা হয়। এতে পেট না ভরাব সমস্যা থাকে না। শরীরে অভাব দেখা দেয় না ভিটামিন ও নানা খণিজ লবণের। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ হল দিনে পাঁচবার আশি গ্রামের মতো টাটকা সবজি ও শাক খাওয়া এবং কিছুটা রান্না করে, বাকিটা সালাদ বানিয়ে খেতে হবে। শসা, গাজর, টমেটো, আলাদা স্যালাদ বানিয়ে খেলে বারবার খিদে পায় এমন ডায়াবেটিসের রোগীদের সমস্যা কেটে যায়।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিসের রোগী মাংস খেতে পারবেন কিনা?
উত্তর: ডায়াবেটিসের রোগী মাংস খেতে সমস্যা নেই যদি মাংসটা সাদা হয়। খাসি, পাঁঠা বা অন্য যে কোনও লাল মাংসে প্রচুর পরিমাণে চর্বি থাকে। লাল মাংসে কোলেষ্টেরল ও থাকে অনেকটাই। ডায়াবেটিসের রোগীকে লাল মাংস খাওয়া নিষেধ। মুরগির মাংস খাওয়া যেতে পারে। মাছ আর মাংস একদিনে দুটো চলবে না। মাছ খেলে মাছ এবং মাংস খেলে মাংস খেতে হবে। মাঝে মধ্যে দুই চার টুকরা খাসির মাংস খেতে পারেন।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *