Breaking News

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ

ডায়াবেটিস সাধারনত চার প্রকার।

ক) ধরন ১ (শর্করা বিহীন), খ) ধরন ২ (শর্করাযুক্ত), গ) গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, ঘ) অন্যান্য কারণ ভিত্তিক।

ক) ধরন ১ (শর্করা বিহীন)-  এই ধরণের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরী হয় না। সাধারনতঃ ৩০ বছরের কম বয়সে (গড় বয়স ১০-২০ বছর) এ ধরণের ডায়াবেটিস দেখা যায়। সুস্থ থাকার জন্য এ ধরণের রোগীকে ইনসুলিন নিতে হয়। এই ধরণের রোগীরা সাধারনত কৃঞ্চকায় হয়ে থাকেন। সাধারনতঃ যে লক্ষণ গুলো হচ্ছেঃ-

১) প্রচুর পরিমাণে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় কিন্তু প্রস্রাবে সুগার বা অন্য কোন প্রকার দূষিত পদার্থ বের হয় না।

২) কিডনীর কর্মশক্তির অভাব হেতু এই রোগ হয়। এই রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা কঠিন। অধিকাংশ চিকিৎসাবিদের মতে স্নায়ুর গোলযোগই ইহার প্রধান কারণ। ইহাতে শরীরের কোন যন্ত্রাধির পরিবর্তন হয় না।

৩) মূত্রের আপেক্ষিক গুরুত্ব কমে যায় এবং স্বাভাবিকের চেয়েও কম হয়। ইহার আপেক্ষিক গুরুত্ব ১০১০ হতে ১০০৫ পর্যন্ত এমন কি কমতে ১০০১ পর্যন্ত হতে পারে।

৪) ইহাতে প্রচুর পরিমাণে মূত্রত্যাগে হয় কিন্তু মূত্রে শর্করা থাকে না। ইহাতে কলের জলের ন্যায় বর্ণহীণ মূত্রত্যাগ হয় এবং মূত্রে ইউরিয়া নামক পদার্থ বেশী থাকে।

৫) এই রোগেও প্রবল পিপাসা, শরীর ক্ষয়, চর্ম শুষ্ক প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়। জিহ্বা লাল ও চকচকে দেখায়। প্রস্রাবের পরিমাণ অনুসারে পিপাসার হ্রাসবৃদ্ধি হয়। মুখ সর্বদাই শুষ্ক দেখায়। ইহা অনেক সময় বংশগত হয়ে পড়ে।

৬) এই রোগীর দেহের তাপমাত্রা অনেক কমে যা।

৭) সাধারণত ১০ হতে ২৫ বছরের মধ্যেই এই অধিক হয়। স্ত্রী অপেক্ষা পুরুষের রোগটি বেশী হয়।

কারণ (Aetiology)ঃ
১) আঘাত লাগা অথবা অপারেশন জনিত কোনও ক্রুটি।

২) Posterior Lobe অথবা Hypothalamic কেন্দ্রের গোলযোগ হেতু।

লক্ষণ (Symptomas):
১) প্রচুর পরিমাণে প্রস্রাব।

২) অতিরিক্ত তৃষ্ণা, বিশেষ করে ঠান্ডা জল পান করতে চায়।

৩) রাত্রে ও দিনে ঘুমের ব্যাঘাত কারণ বারবার পানি পান করার কারণে মূত্রত্যাগ করতে উঠতে হয়।

৪) দুর্বলতা।

৫) বেদনাহীন উদরাময়, জলের মত মল অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য।

চিহ্নগত লক্ষণ (Signs):
১) পেট বড়, চেহারা জীর্ণশীর্ণ।
২) চামড়া শুষ্ক এবং কুঁচকানো।
৩) তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়েও কম।
৪) পুষ্টির অভাব।

রোগ নিরুপণ (Diagnosis):

১) Urine Test: দৈনিক ৪ লিটারের বেশী নির্গত হয় এবং আপেক্ষিক গুরুত্ব খুবই কম ও সুগার থাকে না।
2) Pyelography, shows enlargement of ureters, kidneys & bladder.
3) Blood Serology: Standard tests for syphilis.
4) Hypertonic Saline Test: Above I.V. saline infusion. Urine volume will not fall and in fact it may rise.

পথ্যঃ
১) অল্প প্রোটিনযুক্ত পথ্য গ্রহণ।
২) সামান্য লবণযুক্ত পথ্য গ্রহণ। লবণ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে পারলে ভাল।

খ) ধরন ২ (শর্করাযুক্ত)ঃ এই রোগীর বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রে ত্রিশ বছরের উপরের হয়ে থাকে। তবে ত্রিশ বছরের নিচে এই ধরণের রোগীরা সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এই ধরণের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন তৈরী হয়, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় অথবা শরীরে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যায়। অনেক সময় এই দুই ধরণের কারণ একই সাথে দিতে পারে। এই ধরণের রোগীরা ইনসুলিন নির্ভর নন। অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যভাসের পরিবর্তন এবং নিয়মিত ব্যায়ামের সাহায্যে এদের চিকিৎসা করা সম্ভব। এই ধরণের রোগীরা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে স্থুলকায় হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ যে লক্ষণ গুলো হচ্ছেঃ-

১) বেশি পরিমাণে বার বার স্বচ্ছ জলের মত মূত্র এবং রক্তে যে সুগার জমে তা মূত্রের সাথে অধিক পরিমাণে নির্গত হয়। এতে শরীরে পুষ্টি সাধনে বাধা পড়ে।

২) শরীরের শর্করা জাতীয় সব খাদ্য হজম হয়ে যায় এবং গ্লুকোজে পরিণত হয়ে যায়। এতে রক্তে ব্লাড সুগার লেবেল বৃদ্ধি পায়।

৩) মূত্রের আপেক্ষিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় এবং ১০৪০ পর্যন্ত হয়, কখনো কখনো ১০৬০ পর্যন্ত হতে পারে কিন্তু স্বাভাবিক হচ্ছে ১০১০ হতে ১০২০ পর্যন্ত।

৪) ইহাতে প্রচুর পরিমাণে মূত্রত্যাগ হয় এবং মূত্রে শর্করা বিদ্যমান থাকে।

৫) প্রবল পিপাসা, ঠোঁট, মুখমন্ডল শুষ্ক ও আঠা আঠা, প্রবল ক্ষুধা আবার কখনো আহারে অনিচ্ছা, জিহ্বা শুষ্ক, পরিস্কার, লালবর্ণ, ফাটাফাটা হয়। দেহের পেশীগুলো নরম এবং গোল হয়ে পড়ে।

৬) রোগীর দেহের তাপমাত্রা কমে যায় এবং ৯৬/৯৭ ডিগ্রী পর্যন্ত হতে পারে।

৭) ইহা সাধারনত ৩০ হতে ৫০/৬০ বছর বয়সের মধ্যে রোগটি অধিক হয়।

৮) সর্বদাই শীতবোধ করে এবং মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রম করতে পারে না।

কারণ (Aetiology)ঃ
১) ইনসুলিনের ভয়ানক অভাব এবং প্রচুর পরিমাণে প্রস্রাব। অতিরিক্তি পানি পিপাসা কিন্তু পানি পান করতে চায় না।

২) সঠিক কারণ অজ্ঞাত হলে নিম্নলিখিত কারণে এই রোগ সমূহ হয়ে থাকে। যেমনঃ- বংশগত, মেদপূর্ণ, সংক্রমণ, লিভারের গোলযোগ, শারীরিক ও মানসিক অত্যাধিক পরিশ্রম, চর্বি ও স্নেহজাতীয় খাদ্য অধিক পরিমাণে গ্রহণ, স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ গ্রহণ, দীর্ঘদিন যাবত গ্রহণ, ইনসুলিন নির্গমন, টিসু সমূহ বিনষ্ট। এনডোক্রিনাল গ্রন্থির গোলযোগ।

লক্ষণ (Symptomas):
১) প্রচুর পরিমাণে প্রস্রাব।
২) অতিরিক্ত পানি পিপাসা, বিশেষ করে ঠান্ডা পানি পান করতে চায়।
৩) শারীরিক দুর্বলতা ও জীর্ণশীর্ণ।
৪) ক্ষত শুকাতে চায় না।
৫) অঙ্গ প্রত্যঙ্গে ব্যথা।
৬) গলা, মুখ শুকনো এবং কোষ্ঠকাঠিন্য।
৭) প্রচন্ড চুলকানি।

চিহ্নগত লক্ষণ (Signs):
১) জিহ্বা লাল এবং শুষ্ক।
২) দেহ ত্বকের বিবর্ণতা।
৩) দুর্বলতা ভাব প্রকট।
৪) রোগের অগ্রগতির উপর অন্যান্য আরোও অনেক লক্ষণ প্রকাশ পায়।

রোগ নিরুপণ (Diagnosis):
1) Urine Test: Specific gravity over 1020 Reaction – acidic.
Benedict’s Test: Positive.
Sodium Sugar Nitroprusside Test: Acetone may or may not be Present.
2) Blood Test: Alkali reserve – lowered. Sugar above 120mg/100ml. (Latent), Above 180mg/100ml (Clinical).

জটিলতাঃ
১) ফুসফুস আক্রান্ত, যক্ষা।
২) ধ্বজভঙ্গ ও বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।
৩) বারবার গর্ভস্রাব, মৃত সন্তান প্রসব, মুচ্ছাভাব।
৪) দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, চোখ থেকে অবিরত জল পড়ে, সর্দিস্রাব।
৫) চর্মে ফোড়া, কার্বাংকল ইত্যাদি হতে পারে।
৬) অপারেশন জনিত কোন ত্রুটি।
৭) কিডনীতে সমস্যা।

পথ্যঃ
১) উপযুক্ত পরিমাণ ক্যালেরীযুক্ত খাদ্য গ্রহণ।
২) চিনি মুক্ত খাবার খেতে হবে।
৩) নিয়মিত ও সময়মত আহার করতে হবে।
৪) নোংড়া, অলস জীবন যাপন পরিহার করতে হবে। নির্মল ও খোলা বাতাসে এমন পরিবেশে বসবাস করতে হবে।
৫) নিয়মিত সকাল বিকাল ব্যায়াম করতে হবে।
৬) দৈনিক ওজন ঠিকমত আছে কিনা তা দেখতে হবে।
৭) রোগ জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ধরন ২ (শর্করাযুক্ত) ডায়াবেটিসের ঝুঁকি যাদের বেশি

১) বংশের মধ্যে পিতা, মাতা ডায়াবেটিস ধরন ২ তে আক্রান্ত হয়েছেন বা আছেন।
২) যারা শারীরিক পরিশ্রম কম, শরীর মেদবহুল, যারা খুব বেশি চর্বিযুক্ত ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট খাবার খান।
৩) যারা বয়স ৪৫ এর পর কম পরিশ্রম করেন।
৪) যাদের শরীরের মধ্যাংশ অত্যাধিক মেদবহুল, নিতম্বের তুলনায় পেট বেশি ভারী।
৫) যাদের জন্মে সময় ওজন কম ছিল এবং ধুমপান করেন।
৬) যারা শহরে থাকেন, শহরের প্রাচুর্যে ভরা জীবন যাত্রায় অভ্যস্ত, ফ্যাটযুক্ত খাবার খুব বেশি খান এবং পরিশ্রম কম করেন।

ধরন ২ (শর্করাযুক্ত) ডায়াবেটিসের প্রতিরোধের উপায়ঃ

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান কতটা খাচ্ছেন তার চাইতে বেশি জরুরী হল কী খাচ্ছেন। চর্বিযুক্ত, চিনি ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। ডায়াটারী ফাইবার যুক্ত খাবার নিয়মিত খান। আপনার প্রয়োজনীয়তার বেশি ক্যালোরি নিবেন না। স্বাস্থ্যসম্মত ওজন ধরে রাখুন। শরীর মেদবহুল হলে স্বাস্থ্য কমান এবং ব্যায়াম করুন। ধুমপান এড়িয়ে চলুন এবং মদ্যপান এড়িয়ে চলুন বা খুব কম খান।

গ) গর্ভকালীন ডায়াবেটিসঃ অনেক সময় গর্ভবতী অবস্থায় প্রসূতিদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। আবার প্রসবের পর ডায়াবেটিস থাকে না। এই প্রকারের জটিলতাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। গর্ভবতী মহিলাদের ডায়াবেটিস হলে গর্ভবতী, ভ্রুণ, প্রসূতি ও সদ্য প্রসূত শিশু সকলের জন্যই বিপদজনক হতে পারে। বিপদ এড়ানোর জন্য গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিসের প্রয়োজনে ইনসুলিনের মাধ্যমে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। এই ধরণের রোগীদের হাসপাতালে প্রসব করা প্রয়োজন।

ঘ) অন্যান্য নির্দিষ্ট কারণ ভিত্তিক শ্রেণীঃ
১) জেনেটিক কারণে ইনসুলিন তৈরী কম হওয়া।
২) জেনেটিক কারণে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া।
৩) অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ
৪) অন্যান্য হরমোনের আধিক্য
৫) ঔষধ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শে
৬) সংক্রামক ব্যাধি
৭) অন্যান্য কোন প্রতিরোধ ক্ষমতার জটিলতা।

এই ধরণের রোগী ক্ষীণকায় ও অপুষ্টির শিকার হয়ে থাকে এবং ইনসুলিন ছাড়া অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। এই ধরণের রোগীর বয়স ৩০ বছরের নিচে হয়ে থাকে।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *