Breaking News

টনসিলাইটিসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

টনসিলাইটিস কি?

বড় জিহ্বার গোড়ার দিকে আলজিবের দুইপাশে দুইটি গ্রন্হি আছে।উক্ত গ্রন্হির একদিকে বা উভয় দিকে আক্রান্ত হয়ে ফুলিয়া উঠিলে প্রদাহিত হইলে ইহাকে টনসিল প্রদাহ বা টনসিলাইটিস বলে।

টনসিল প্রদাহ দুই প্রকার যথা:

  • কোষময় বা Funicular Tonsillitis .
  • দীর্ঘস্হায়ী বা Chronic Tonsillitis.

 

টনসিলাইটিসের লক্ষণ সমষ্টিঃ

জ্বর ও গলার মধ্যে বেদনা সহ টনসিল ফুলে যায়।টনসিলের রং হলুধাব,লাল বা বেগুনী বা পনিরেরমত শ্লেষ্মা জমে।প্রদাহ ক্রমে ক্রমে কন্ঠনালী আলজিহ্বা ও কোমল তালুতে ছড়াইয়া পড়ে।কখনও কখনও স্ফিত ও বেদনা হয়।প্রায়ই শ্বাস বন্ধ হয়।রোগীর জীবনী শক্তি কমে যায়।মানসিক শক্তির পরির্বতন হয় ,ঘুমের ব্যাঘাত হয়,নাক ডাকে।কানে তালা লাগে,শ্রবন শক্তির হ্রাস পায়।
টনসিলাইটিস চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির সাফল্য অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ফলপ্রসূ।সঠিক সময়ে উপযুক্ত সুনির্বাচিক ঔষধ প্রয়োগে টনলিাইটিস সহজেই আরোগ্য হয়।অস্ত্রচিকিৎসার কোন প্রয়োজন হয় না।যন্ত্রনাহীন সহজ সরল পদ্ধতিতে অল্প পয়সায় চিরতরে টনসিলাইটিস ভাল কার যায়।আমরা এখন যে ভাবে অস্ত্রচালিয়ে টনসিল ফেলে দিয়ে এর চিকিৎসা করতে চেষ্টা করছি।তাতে আমার ভয় হয় এরুপ কাজ করতে করতে একদিন মাথা বেদনা হলে মাথাটাই কেটে ফেলার পরামর্শ গ্রহন করি।এখন অনেক এলোপ্যাথিক ডাক্তারকে বলতে শুনি টনসিল না থাবলে কোন সমস্যাই নেই।কেটে ফেলে দিলে বরং বারবার টনসিলাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকবে না।আমার এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য হলো আল্লাহ আমাদের শরীরে সকল অংশই প্রয়োজনে তৈরী করেছেন।যে কোন রোগ শরীরে প্রবেশ করলেই আমাদের গ্ল্যান্ডগুলি প্রথমেই আমাদের সতর্ক করে দেয়।আমরা রোগাক্রান্ত হচ্ছি।যে কোন দুর্ঘটনার পুর্বে কেউ পুর্বাভাস পেয়ে যাই তা হলে আমরা সেই দুর্ঘটনা থেকে বেচে যাই।বিষয়টি ঠিক এরুপই ।টনসিল আছে বলেই আমরা বড় বড় রোগ আক্রমন হতে বেচে যেতে পারি।সঠিক ঔষধ দ্বারা সঠিক নিয়মে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আরোগ্য হলে আমরা কেন অপারেশনের মত কঠিন কাজে হাত দিব।

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

একোনাইট নেপিলাসঃটনসিলাইটিস রোগের প্রথম অবস্হায়,জ্বর অস্হিরতা,ছটফটানি থাকলে বা একোনাইট নেপিলাসের সকল লক্ষণসমষ্টি বিদ্যমান থাকলে খুবই প্রয়োজনীয় ঔষধ।

ফাইটোলক্কাঃনতুন পুরাতন উভয় প্রকার টনসিল প্রদাহে অপরিহার্য ঔষধ।টনসিল বড়,শক্ত,ঢোক গিলিতে কষ্ট।বারবার টনসিল প্রদাহে আক্রান্ত হয় সেই ক্ষেত্রে উপযোগী।গিলিবার সময় জিহ্বা মুলে ও কানের মধ্যে বেদনা।গলার মধ্যে শুষ্কতা ও জ্বালা সহ ফোলিকুলার টনসিলাইটিসে গুরুত্বপুর্ন ঔষধ।

হিপার সালফঃভীষণ বদরাগী,ঠান্ডায় যন্ত্রনার বৃদ্ধিশীত কাতর এই প্রকৃতির রোগীর টনসিল খুব বড়,ভীষণ বেদনা ঢোক গিলিতে মাছের কাটা ফুটিয়া আছে এরকম বেদনা অনুভব করলে হিপার সালফ অমোঘ ঔষধ।

বেলেডোনাঃটনসিল প্রদাহ ,জবা ফুলের মত লাল আকার ধারন করলে,অত্যন্ত বেদনা জ্বালা যন্ত্রনা জ্বর থাকলে,ডান দিকের টনসিল অধিক ফোলা,ঠান্ডা বাতাস অসহ্য প্রভৃতি লক্ষণ যে রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তার জন্য বেলেডোনা উপযোগী।

ক্যালকেরিয়া আয়োডঃমোটা রোগী আবহাওয়া পরিবর্তনে প্রায়ই ঠান্ডা লাগে।নানা স্হানে গ্রন্থি ফোলা এইধাতুর রোগীর টনসিল প্রদাহ হলে টনসিলের মাঝেসাদা ক্ষত চিহ্ন দেখা গেলে ক্যালকেরিয়া আইয়োড উপযোগী।

লাইকেপোডিয়ামঃএটি একটি এন্টিসোরিক ঔষধ।শ্লেষ্মা প্রধান ধাতুর রোগী নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবে,মেজাজ খিটখিটে ও উদ্ধত।বিকাল ৪টা হইতে রাত আটটার মধ্যে রোগ বৃদ্ধি।আহারের পরে তন্দ্রা ও আলোস্য।সদা মন মরা ,ধর্ম সম্পর্কে বকে কিংবা চুপ থাকে ।আহারের পরে বুকধড়ফড় করে।গরম কাতর ,গরম খাবার পছন্দকারী রোগীর ডান পার্শ্বে টনসিল খুব বড়।।উক্ত টনসিলের মাঝে সাদা ক্ষত।এই রোগীর জন্য লাইকোপোডিয়াম উপযোগী।

এপিস মেলঃপিপাসাহীন,ডান পার্শ্বে আক্রান্ত টনসিলাইটিস , বাহ্য তন্তু ও সমগ্র কন্ঠঝিল্লি ফোলাসহ উজ্জল লাল বা গোলাপী বর্ন।টনসিলে জ্বালা হুলফোটানো বেদনা।গলার ভিতর ও বাহিরে ফোলা পানি পানে যন্ত্রনার বৃদ্ধি।এই লক্ষণ সমষ্টি যে রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তার জন্য এপিস মেল উপযোগী।

ব্যারাইটা কার্ব:স্ক্রুফুলা ধাতুর রোগীর টনসিল প্রদাহের একটি গুরুত্বপুর্ণ ঔষধ।স্মরন শক্তি কম,বোকা বুদ্ধিহীন,বেটে খর্বকায়,ঠান্ডা প্রবন,পায়ের পাতা ঘামে,পা ঠান্ডা থাকে কোষ্ঠবদ্ধ ,জ্বালাযুক্ত অর্শ রোগীর ডান দিকে আক্রান্ত টনসিল।রোগীর থুতু ও ঢোক গিলিতে কষ্ট ,ক্ষত ওপুজপর্ণ হয়।তরল খাবার ছাড়া কিছুই খাইতে পারে না।সমস্ত কন্ঠই উজ্জল লাল বর্ণের হয় সেই রেগীর জন্য ব্যারাইটা কার্ব উপযোগী।

ল্যাকেসিসঃবাম টনসিল আক্রান্ত হইয়া ডান পার্শ্বে আকান্ত হলে কোন কিছু গিলিতে কানের মধ্যে চিরিক মারা বেদনা করে।গরম পানিতে যন্ত্রনার বৃদ্ধি।টনসিলের মাঝে ফোড়া।টনসিল প্রদাহের পরে গুরুতব বাত হলে ল্যাকেসিস উপযোগী। এই লক্ষণ সমষ্টির সাথে ল্যাকেসিসের ধাতুগত মিল থাকলে আরো উপযোগী ঔষধ।

ব্যারাইটা মিউরঃগলা ফোলা ও কঠিনতা সহ অতি বৃহৎ টনসিল।ঢোগ গিলিতে কষ্ট।মাঝে মাঝে টনসিল পাকিয়া পুজ হয়। নতুন ও পুরাতন টনসিলাইটিস পীড়ায় উপযোগী।

কোনিয়াম মেকুলেটামঃটনসিল ক্ষুব বড় ও শক্ত।ভিতরে পুজ হয়,মাঝে মাঝে ছিদ্র হয়। সহজে আরোগ্য হয় না।মাঝে মাঝেই ক্ষত হয় ্পুরাতর ও দীর্ঘস্হায়ী টনসিল প্রদাহে উপযোগী।

গুয়েকামঃগনেরিয়া আক্রান্ত রোগীর তরুন টনসিলাইটিস রোগে গুয়েকাম উপযোগী।টনসিলাইটিস সহ গলায় ক্ষত গলার মাঝে ছিদ্র দেখা দেয়।এটি একটি এন্টি সোরিক ঔষধ।বাত রোগীদের জন্য উপযোগী।

মার্ক সলঃঠান্ডা লেগে গলায় ব্যাথা,মুখ থেকে লালা পড়ে,ঢোক গিলিতে কষ্ট,রাতে বিছানার গরমে কষ্টের বৃদ্ধি।এই লক্ষণ যে টনসিলের রোগীর মাঝে পাওয়া যাবে তার জন্য মার্ক সল জরুরী প্রয়োজন।

সাইলেসিয়াঃটনসিল প্রদাহ ফাটিয়া গিয়াও সহজে আরোগ্য না হলে।রোগীর ক্রমাগত পুজ জমাট ও এর রং কৃষ্ণাভ দুর্গন্ধযুক্ত হলে সাইলেসিয়া উপযোগী।সাইলেসিয়ায় বিফল হলে সালফার প্রয়োজন,সালফার ব্যার্থ হলে এসিড ফ্লোর প্রয়োজন হতে পারে।

ক্যালকেরিয়া কার্বঃক্যালকেরিয়ার ধাতুগ্রস্হ মোটা থলথলে শিশুগনের দৃঢ় কঠিন টনসিল ,বড় হয়ে গেলে বিশেষ উপযোগী।টনসিল থরথলে ও মলিন,শ্রবন শক্তি কমে গেলে ,এডিনয়েড যুক্ত টনসিলাইটিস রোগীর জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ঔষধ।

ব্রোমিনঃরক্তবহ শীরা আবৃত লালবর্ন বৃহদায়তন টনসিলের চিকিৎসায় প্রয়োজন।

 

 বাইয়োকেমিক ঔষধ

ফেরম ফসঃতরুন টনসিল প্রদাহে যখন জ্বর,মুখ,লালবর্ণ,গলায় বেদনা,গিলিতে কষ্ট এমনকি গলনালিতে যে কোন প্রদাহ হলে ফেরম ফস উপযোগী।

কেলিমিউরঃটনসিল যখন ফোলে তখন কেলিমিউর উপযোগী।জিহ্বা সাদা ময়লা বৃত টনসিল রোগির পুজ সৃস্টি হতে রক্ষা করে।টনসিল প্রদাহের প্রথম অবস্হা হতেই ফেরম ফসের সাথে পর্যায়ক্রমে দিলে রোগ জটিল হয় না ।যদি প্রদাহ ,স্ফিত , রোগের জটিল অবস্হায় ব্যবহার করলেও উপকারী।

ক্যালকেরিয়া সাল্ফঃযখন পুজ উৎপত্তি ও পুজ নি:সরণ হয় তখন ক্যালকেরিয়া সাল্ফ প্রয়োজনীয় ঔষধ।এতে পুজ উৎপাদন রোধ হয়।

ক্যালকেরিয়া ফস:পুরাতন টনসিল প্রদাহ ফোলা,রোগী হা করতে পারে না।কিছু গিলিতেপারে না পান করিতেও পারে না।রক্তহীন দুর্বল রোগীর জন্য এ ঔষধ প্রয়োজন।গলার ভিতর খসখসে ভাব চারি দিকে ফোলা জ্বালা পোড়া মিউকাস মেমব্রেন ফোলা হলে এ ঔষধ জরুরী প্রয়োজন।

কেলি ফসঃটনসিল প্রদাহ যখন পচন ধরে,টাইফয়েড জ্বর প্রকাশ পায়,রোগী দর্বল,অবসন্য,অস্হির ও সেপটিক পর্যায়ে তখন খুবই উপযোগী।

নেট্রাম ফসঃটনসিলের সর্দিসহ জিহ্বা ও টনসিল হরিদ্রাভ ময়লা দ্বারা আবৃত।আলজিহ্বা ও টনসিল আদ্রভাব, হলুদ শ্লেষ্মা হয় তখন নেট্রাম ফস উপযোগী।

ম্যাগফসঃপুরাতন টনসিল রোগ,টনসিল প্রদাহ,আক্ষেপিক কাশি,কাশির সাথে তীব্র স্বর বের হয়।
খুক খুকে কাশিসহ,তরুন ও পুরাতন টনসিল প্রদাহ চিকিৎসায় ম্যাগফস ব্যবহারে যন্ত্রা ও ফোলা উভয়েরই উপকার হয়।

সাইলেসিয়াঃটনসিলের পুজ নিবারনে খুবই প্রয়োজনীয় ঔষধ।টনসিলের প্রদাহ,পুজ,দুষিত পদার্থ নিবারন করে।সাইলেসিয়া প্রয়োগে পুজ শোষন হয়ে টনসিলাইটিস আরোগ্যের দিকে অগ্রসর হয়।

উপসংহারঃ

টনসিলাইটিস বিষয়ে আমার এ লেখা নবীন ডাক্তার দের ও হোমিওপ্যাথিক ছাত্রদের উপযোগী।এই লেখা পড়ে নিজে নিজে চিকিৎসা করবেন না,কারন হোমিওপ্যাথি একটি জটিল ব্যবস্হা অনেক সাধনার বিষয়।নিজে ঔষধ খাবেন আর বলবেন হোমিও ভাল না এটি ঠিক নয়।একজন দক্ষ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিবেন।

টনসিল প্রদাহ কালে গরম সেকতাপ ও ঠান্ডা বর্জন করা জরুরী।গরম পানিতে ফাইটোলক্কা মাদার টিংচার দিয়ে গরগরা করলে আরাম হয়।লক্ষণ বিবেচনায় নিচের ঔষধের মধ্য হতে সঠিকটি নির্বাচন করতে পারলে রোগটি বিনা কষ্টে আরোগ্য হয়।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *