Breaking News
চিকিৎসা পরামর্শ

ভালো হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার চেনার উপায়

বর্তমান সময়ে দেখা যায় যে বেশিরভাগ মানুষই চিকিৎসার নামে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের নিকটে গিয়ে প্রতারণার স্বীকার হচ্ছে। সৃষ্টকর্তা আমাদেরকে বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন যে,কোনো কিছু যাচাই বাছাই করে ভালটা গ্রহণ ও মন্দটা পরিত্যাগ করার জন্য কিন্তু বাস্তবতা হলো,অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে অতোটা যাচাই বাছাই করি না। অনেকে প্রশ্ন করেন যে, কিভাবে আমরা বা রোগীগণ বুঝবো যে আমরা সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পাচ্ছি বা তিনি হোমিওপ্যাথি ভাল জানেন ? যদিও চিকিৎসকের চিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষাটা আপাতদৃষ্টিতে জানা সম্ভব নয় তথাপি আমি আমার কিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
★ প্রথমে হোমিও চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে দেখবেন যে উনার চেম্বারে হোমিওপ্যাথি ঔষধ ব্যতীত বড় বড় পেটেন্ট বোতল, আয়ূর্বেদী, হারবাল, টনিক, সিরাপ, ট্যাবলেট প্রভৃতি ঔষধ রয়েছে কিনা। যদি থাকে তাহলে প্রথম দর্শনেই বুঝে নিতে হবে যে লোকটি ভাল চিকিৎসক নন্।
★ তারপর লক্ষ্য করবেন যে,উনার চেম্বারে কি পরিমাণ বইপুস্তক রয়েছে। রোগী পরীক্ষার যন্ত্র (অন্তত: থেতিস্কোপ,প্রেসারমাপার এবং ওজন মাপার যন্ত্র,থার্মোমিটার আছে কি না।
★ আপনি যেকোনো রোগ নিয়ে উনার নিকটে যাবার পর তিনি আপনাকে বেশি কিছু জিজ্ঞাসা না করেই (মুখস্ত) ঔষধ দিয়ে দিলে ধরে নিতে পারেন উনি ভাল চিকিৎসক নন্। অবশ্য নতুন বা হটাৎ আক্রান্ত রোগ যেমন, জ্বর, সর্দি কাশি, ডায়রিয়া, ছোটখাটো কাঁটাছেড়া এরকম তরুণ রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসক অল্প কিছু কথা জিজ্ঞাসা করেই ঔষধ দিতে পারেন।
★ কিন্তু ক্রণিক অর্থাৎ কোন জটিল রোগে অনেক দিন যাবৎ ভোগ করে আসছে যেমন হাঁপানি, চর্মরোগ, আমাশয়, হেপাটাইটিস বি, জন্ডিস যে কোনো ধরনের বাত ও বাতজ্বর, টনসিলাইটিস, পলিপাস, পাইলস, কিডনীরোগ, স্মায়ুরোগ, হৃদরোগ, মানসিক রোগ, টিউমার, আচিল, পাইলস, ক্যানসার ইত্যাদি রোগের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক অবশ্যই আপনার টোটাল কেইসহিস্ট্রী বংশগত ইতিহাস সহ খাতায় লিপিবদ্ধ করবেন। সম্পূর্ণ রোগীলিপি করার পর প্রয়োজনে রেপার্রটরীকরণের মাধ্যমে ভাল করে পর্যবেক্ষণের পরেই আপনাকে ঔষধ দেবেন। হোমিওপ্যাথি হচ্ছে সম্পূর্ণই লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা,তাই রোগী যদি চিকিৎসকের নিকটে কোনো কিছু লজ্জার কারণে গোপন করেন তাহলে রোগী নিজেই ঠকবেন।
★ আপনার সমস্ত কিছু বিস্তারিত ভাবে জানার পর আপনি যদি দেখেন যে চিকিৎসক ঐ রোগীলিপিটা নিয়ে বিভিন্ন বই, নোটখাতা বা কমপিউটারে ঘাটাঘাটি করছেন, তাহলে আপনি অধৈর্য হবেন না, কারণ চিকিৎসক আপনাকে সঠিক ঔষধটা দেবার জন্যই এতো পরিশ্রম করছেন। হোমিওপ্যাথিতে রোগের লক্ষণ না জেনে মুখস্থ ঔষধ দেয়ার বিধান নেই।
★ সর্বশেষ যখন দেখবেন যে চিকিৎসক অনেক ঘাটাঘাটির পর আপনাকে একটি ঔষধ বা কদাচিৎ দুটি ঔষধ (sl) দিলেন তাহলেই আপনি সেই চিকিৎসকের চিকিৎসা সানন্দে গ্রহণ করতে পারেন ।
পার্থিব জীবনে আমরা যেকোন কাজই করি না কেন, তা জেনে বুঝে, যাচাই-বাছাই করেই সম্পাদন করি। দুনিয়ার জীবনে বসবাসের প্রয়োজনে এক শতক জমি ক্রয় করতে গিয়ে আগে আমরা ভালভাবে যাচাই করি, জমির দলীলপত্র, দাগ নম্বর, খাজনা-খতিয়ান, পরচা ইত্যাদি সবকিছু ঠিক আছে কি-না ? এত যাচাই-বাছাই করে জমি খরিদ করি কিন্তু সামান্য মূল্যের জমির চাইতে লক্ষ-কোটি গুণ মূল্যের এই মানবদেহ অসুস্থ হলে যাচাই বাছাই করে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত নয় কী ? ওয়াসসালাম।
(সম্পাদিত)