Breaking News

গ্যাংরিনের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

গ্যাংরিন একটি কঠিন রোগ।এই রোগটিকে ক্যান্সার বলে রোগীর অস্ত্রপ্রচারের মাধ্যমে চিকিৎসা না করে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আরোগ্য হয়।আমার লেখা পরে নিজে নিজে চিকিৎসা করবেন না।একটি কথা সরণ রাখিবেন হোমিওপ্যাথিক মতের চিকিৎসায় প্র্যাকটিস – অব – মেডিসিন মতে চিকিৎসা কখনও ফলদায়ক হইতে পারে না।কারণ রোগের বিবিধ লক্ষণ, রোগীর পীড়ার সাধারণ লক্ষণ, বিশেষ লক্ষণ, ধাতুজ লক্ষণ, মানসিক লক্ষণ , বিশেষত্ব প্রভৃতির সহিত ঔষধের লক্ষণ-সমষ্টির সাদৃশ্য মিলাইয়া ঔষধ নির্বাচন করিলে তবে তরিৎবেগে ও সমূলে রোগ আরোগ্য হয়।লক্ষণ বিবেচনায় সঠিক ঔষধ নির্বাচন করে পরিমিত মাত্রায় সেবনে এই ক্ষত আরোগ্য হয়।নেক্রোসিস বা গ্যাংগ্রিন কি ?

ব্যাপক হারে টিসুর ধ্বংস বা মৃত্যু এবং সেই সঙ্গে যদি স্যাপ্রোফাইটিক বীজাণু জনিত পচন হয়, যার ফলে এ থেকে যা ফল দাঁড়ায়,তাকেই বলা হয় নেক্রোসিস বা গ্যাংগ্রিন ( Gangrene )।এটি অত্যন্ত ভয়াবহ অবস্থা।এটি বেশী পরিমাণে অগ্রসর হলে প্রচলিত চিকিৎসার কোন ঔষধের ক্রিয়াতে কাজ হয় না।তখন অবিলম্বে সার্জন দ্বারা ঐ পচনশীল অংশ কেটে বাদ দিতে হবে, তা না হলে রোগীর জীবন বিপন্ন হবে।অনেক সময় ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষত থেকে অতি ধীরে পচন শুরু হয় এবং তা অবশেষে গ্যাংগ্রিনে পরিণত হয়।

গ্যাংগ্রিন দুই ধরনের হয় ঃভেজা গ্যাংগ্রিন বা Wet Gangreneশুকনো গ্যাংগ্রিন বা Dry Gangreneপচনশীল বীজাণুরা যদি গ্যাস উৎপাদক হয় (যেমন ক্লসট্রিডিয়াস ওয়েলসাই)তা হলে ঐ নেক্রোটিক টিসুতে প্রচুর গ্যাস সৃষ্টি হয়।এই ধরনের গ্যাস সৃষ্টিকারী পচনশীল নেক্রোসিসকে বলা হয় গ্যাস গ্যাংগ্রিন(Gas Gangrene)।শুকনো গ্যাংগ্রিন – শরীরের কোনও অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হবার ফলে তাদের স্পর্শে আসা সব টিসুতে শুকনো পচনশীল গ্যাংগ্রিন শুরু হয়।মৃত টিসুগুলি থেকে জল বাস্প হয়ে যায়।ঐগুলি সব শুকিয়ে ওঠে।রং ধীরে ধীরে কৃষ্ণবর্ণ হয়।টিসু সংকুচিত হয়।কিন্তু ধীরে ধীরে গ্যাংগ্রিন ছড়িয়ে পরে।অণুবীক্ষণ যন্ত্রে মৃত কোষগুলি ঘন সন্নিবিষ্ট এবং সংকুচিত দেখা যায়।ভেজা

গ্যাংরিংঃযদি দেহের ভেতরের কোনও অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়,তা হলে ঐ রক্তহীন তিসুগুলি বিপন্ন হয়।এই নষ্ট টিসুর মধ্যে পচনশীল(Saprophytic)বীজাণু প্রবেশ করে।তার ফলে এনজাইমের প্রক্রিয়ার ফলে ঐ নষ্ট অংশ হয়ে যায় নরম এবং দুর্গন্ধযুক্ত।রক্তের লোহিতকণিকা(R.B.C)এবং লোহিতকণিকা দেহে বিশ্লিষ্ট অংশের মিশ্রণের সংস্পর্শে আসায় টিসু গুলির রং নষ্ট হয়।প্রথমে হয় লাল – তারপর বেগুনি – তারপর সবুজাভ এবং শেষে কালো রং হয়।পচনশীল ক্ষতের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা –গ্যাংরিনের চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার সহিত ঔষধ নির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

আর্সেনিক এলবম – গ্যাংগ্রিনের ক্ষতমধ্যে অগ্নিদাহবৎ জ্বালা – উত্তাপ প্রয়োগে উপশম।ক্ষতের প্রান্ত উচ্চ ও চতুরপার্শ্বে চকচকে লালিমা, তলদেশ কৃষ্ণবর্ণ ; ক্ষত হইতে প্রচুর পরিমাণে পচা দুর্গন্ধযুক্ত,হ্যাজাকর, রক্তময়, জলবৎ তরল পুঁজ নির্গমন।

সিকেলি কর – গ্যাংগ্রিনের ক্ষতমধ্যে অগ্নিদাহবৎ জ্বালা – উত্তাপে বৃদ্ধি, ঠাণ্ডায় উপশম।

এসাফিটিডা – ক্ষতের প্রান্ত উচ্চ ও কঠিন, স্পর্শ সহ্য হয় না, সহজেই রক্তস্রাব হয় এবং মধ্যে মধ্যে তীক্ষ্ণ বেদনা বোধ হয় ; ক্ষত হইতে প্রচুর পরিমাণে সবুজাভ, তরল, দুর্গন্ধযুক্ত, রক্তময় পুঁজ নির্গত হয় ; ক্ষত অস্থি আক্রমণ করিলে এবং তাহার চতুষ্পার্শ্বে সামান্য স্পর্শও সহ্য না হইলে ইহা বিশেষ উপযোগী।

কার্বো ভেজ – ভেরিকোজ ও ক্যালাস, আলসার ; ক্ষত হইতে রক্তস্রাব হয় ;পচা দুর্গন্ধযুক্ত, হ্যাজাকর, তরল,স্বল্প আস্রাব ; ক্ষতমধ্যে অত্যন্ত জ্বালা ও তাহার চতুষ্পার্শ্বে নিলাভ।

এসিড ফ্লোর – ভেরিকোজ আলসার ; ক্ষতের পার্শ্বে স্বল্পস্থানে জ্বালা ও ক্ষতমধ্যে আত্যন্ত বেদনা – উত্তাপে বৃদ্ধি। ঠাণ্ডায় উপশম।

গ্রাফাইটিস– দুর্গন্ধযুক্ত, গাড় পুজস্রাব,ক্ষতমধ্যে চুলকানি অথবা হুলবিঁধনবৎ বেদনা এবং মাংসবৃদ্ধি(প্রাউড ফ্লেস ) ক্ষতের পার্শ্বে চর্ম বিদীর্ণ হয়।

হিপার সাল্ফ– ক্ষতের ধারগুলি খাঁজকাটা দেখায় এবং তাহার চতুষ্পার্শ্বে ফুস্কুরি জন্মে ; দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ নিঃসৃত হয় এবং মৃদ স্পর্শও সহ্য হয় না।

ক্যালি বাইক্রোম – ক্ষত ক্রমশ গভীর হইয়া পড়ে এবং তাহার তলদেশ আঠাল দড়িদড়াবৎ পুঁজ সংলগ্ন থাকে।

ল্যাকেসিস – ইরিটেবল আলসার ; ভেরিকোজ আলসার – সচরাচর পায়ের কব্জিতে হয়;ক্ষতের তলদেশ কৃষ্ণবর্ণ, সামান্য পুঁজ নিঃসৃত হয়, কিন্তু সহজেই রক্তপাত হয় এবং ক্ষত স্পর্শ করিলে জ্বালা বোধ হয়;ক্ষতে স্পর্শ সহ্য হয় না, তাহা হইতে দুর্গন্ধযুক্ত হ্যাজাকর আস্রাব নিঃসৃত হয় এবং চতুষ্পার্শ্বে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুস্কুরি জন্মে;পচা ক্ষত,গ্যাংগ্রিন।

লাইকোপোডিয়াম – নিন্মপদের ক্ষত ; রাত্রিকালে ক্ষতমধ্যে ছিঁড়িয়া ফেলিবার ন্যায় যন্ত্রণা হয়,অত্যন্ত চুলকায়; ক্ষতের ধার লাল ও কঠিন হয় এবং উলটাইয়া যায়।স্পর্শ করিলে জ্বালা করে;উত্তাপে যন্ত্রণার বৃদ্ধি,ঠাণ্ডায় উপশম।

মার্কসল – ক্ষত অগভীরভাবে বিস্তৃত হয় এবং তাহার তলদেশে চর্বির ন্যায় পদার্থ জমিয়া থাকে ও উচুনিচু এবং অসমান দেখায় ;ক্ষত হইতে সহজেই রক্তপাত হয়;অত্যধিক বেদনা মৃদু স্পর্শও সহ্য হয় না ;নীলাভ বা ঈষৎ কৃষ্ণবর্ণ ক্ষত ; রাত্রিকালে ,শয্যার উত্তাপে এবং উত্তাপ ও ঠাণ্ডা প্রয়োগে যন্ত্রণার বৃদ্ধি।

মেজেরিয়াম – ক্ষতের চতুর্দিক আড়ষ্ট, সহজেই রক্তস্রাব হয়, পুঁজ জমিয়া মামড়ী পড়ে ও তাহার নীচে প্রচুর পুঁজ জমিয়া থাকে এবং চতুষ্পার্শ্বে জ্বালাময় ফুস্কুরি জন্মে ; ল্কতমধ্যে খচখচানি বেদনা – রাত্রিকালে বৃদ্ধি।

নাইট্রিক এসিড – ক্ষত ক্রমশ গভীর হইয়া পড়ে এবং তন্মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মাংসবৃদ্ধি হয় ; মৃদুতম স্পর্শে কণ্টকবিঁধনবৎ বেদনা ও জ্বালাবোধসহ ক্ষত হইতে রক্তস্রাব হয় ; রক্তমিশ্রিত দুর্গন্ধযুক্ত তরল পুঁজ ; রাত্রিকালে ও ঠাণ্ডায় যন্ত্রণার বৃদ্ধি।

সাইলিসিয়া – ক্ষতমধ্যে গ্রানুলেসানের আধিক্যবশতঃ ক্ষত আরোগ্য হইতে চায় না এবং ক্রমাগত পুঁজ নিঃসরণ হইতে থাকে। ক্ষতে গ্রানুলেসান আরম্ভ হইবার পর ইহা আরোগ্য ত্বরাম্বিত করে।

সালফার – ক্ষতের প্রান্ত উচ্চ ও স্ফীত এবং ফুস্কুরি পরিবেষ্টিত ; ক্ষতমধ্যে হুলবিধনবৎ যন্ত্রণা হয়, সহজেই রক্ত পড়ে এবং ঘন অথবা তরল দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ নিঃসৃত হয়। কেহ কেহ পুরাতন ক্ষতের চিকিৎসা-কালে সর্বাগ্রে সালফার প্রয়োগ করিয়া তৎপর অন্য নির্বাচিত ঔষধ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়া থাকেন।

ক্রোটেলাস – ব্রণ, স্ফোটক, কারবাঙ্কল কিম্বা অন্য কোনও প্রকার ক্ষত যখন পচে কিম্বা ক্ষতের চারিধার শক্ত এবং কালচে রঙ বা নীলবর্ণ ধারণ করে, গ্যাংগ্রিনে পরিণত হয়, রোগী ক্রমশঃ নিস্তেজ ও দুর্বল হইয়া পড়ে,তখন ক্রোটেলাস উপকারী।

ইচিনেসিয়া – ইহা একটি রক্ত দোষমুক্তকারী ঔষধ।ব্যক্তির নিজের শরীরের সংক্রামক বিষ থেকে সংক্রমণ জনিত কারনে তরুণ রোগ সমূহ।রক্তবিষাক্ততার লক্ষণসমূহ সাধারণত রক্তের পচনশীল বা সেপটিক অবস্থা।সান্নিপাতিক জ্বর বা টাইফয়েড রোগে উদরাময়।গনোরিয়া।ফোঁড়া সমূহ।ইরিসিপেলাস দুর্গন্ধযুক্ত ক্ষত সমূহ।গ্যাংগ্রিন। শয্যাক্ষত,কারবাঙ্কল,বিষাক্ত জন্তুর কিম্বা পতঙ্গ দংশন প্রভৃতিতে ইহা বিশেষ উপকারী।ইহার সমস্ত আস্রাব যেমন – মল,মুত্র,প্রসবান্তিক স্রাব, নিঃশ্বাস প্রভৃতি সমস্তই দুর্গন্ধযুক্ত।

ট্যারেনটুলা কিউবেন্সিস – রক্ত বিষাক্ত হইয়া কতকগুলি পীড়ায় ইহা ব্যবহার হয় যেমন – ডিপথেরিয়া, নানাপ্রকার ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক প্রদাহ, সাংঘাতিক প্রকারের স্ফোটক, বিসর্প প্রভৃতি অত্যন্ত লালবর্ণ হয়, জ্বালাকরে হুলফোটানর মত বেদনা হয় ও পাকে এবং বাগী, কারবঙ্কল, গ্যাংগ্রিন, বুকের ক্যান্সার বৃদ্ধদিগের ক্ষত ইত্যাদির ইহা মহৌষধ।

প্লম্বম মেট – অণ্ডকোষের গ্যাংগ্রিন আরোগ্য করিতে – প্লম্বমের ক্ষমতাই অধিক।গ্যাংরিন সিকিৎসায় ব্যবহৃত উপরোক্ত ঔষধ ছাড়াও সদৃশ লক্ষণে আরো অনেক ঔষধ প্রয়োজন হতে পারে। একজন দক্ষ চিকিৎসকই তা নির্বাচন করিতে সক্ষম।কেহ আমার এ লেখা পড়ে চিকিৎসা করে রোগের জটিলতা সৃষ্টি করিবেন না।ডাক্তার না হয়ে একা একা চিকিৎসার না করে,জটিলতা উপলদ্ধি কররেন এই প্রত্যাশা করি।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *