Breaking News

গর্ভস্রাব

গর্ভের অপূর্ণবস্থায় ভ্রুণ বাহির হইলে গর্ভস্রাব বলে। যদি ভ্রুণ সপ্তম মাসের পর বহির্গত হয়, তহা হইলে অনেক সময় শিশু জীবিত থাকে। একবার গর্ভস্রাব হইলে পরবর্তীতেও গর্ভস্রাব হইতে পারে। যে মাসে গর্ভস্রাব হয় সে সময় আসিলে পূর্বে সাবধান হওয়া উচিত। সচরাচর তৃতীয় মাসে, কখন কখন উহার পূর্বে বা পরে গর্ভস্রাব হয়ে থাকে।

কারণঃ যে কোন রুপে আঘাত লাগা, শারীরিক দুর্বলতা, গর্ভের প্রথম অবস্থায় জরায়ুর সহিত ভ্রুণের অল্প সংযোগ, প্রচুর রজঃস্রাব, দীর্ঘস্থায়ী রক্তস্রাব, গর্ভাবস্থায় স্বামী সহবাস, জরায়ুর অসম্পূর্ণ প্রসারণ, জরায়ুর মুখের শৈথিল্য, রাত্রি জাগরণ, কাপড় কসিয়া পড়া, পা পিচলাইয়া বা উচ্চস্থান থেকে পড়া, অসমান পথে গরুর গাড়ী চড়া, বড় বড় কলসীতে জল তোলা, বসন্ত, কলেরা, ম্যালেরিয়া জ¦র, ডিপথেরিয়া প্রভৃতি সংক্রামক রোগ হওয়া, শোক, দুঃখ প্রভৃতি মানসিক উদ্বেগ প্রভৃতি কারণে গর্ভস্রাব হয়।

লক্ষণঃ মাসিক ঋতুর পূর্বে ও সময় সময় শারীরিক অবস্থা যেরুপ হয়, গর্ভস্রাবের সময়ও অনেকটা সেইরুপ অবস্থা ঘটে। নড়িতে চড়িতে ও কাজ করিতে অনিচ্ছা, বিষন্নতা, ক্রমশঃ বর্দ্ধনশীল রক্তস্রাব, কোমরের ও উপরের কর্তনবৎ বেদনা ও উত্তরোত্তর বেদনার বৃদ্ধি ইত্যাদি ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং অধিক বেদনা উপসিস্থত হইয়া জল ভাঙ্গে ও ভ্রুণ বহির্গত হয়।

মন্তব্যঃ গর্ভস্রাবে শিশুর সাথে গর্ভিণী বা প্রসূতিরও জীবন নষ্ট হইতে পারে।

চিকিৎসা

প্রধান ঔষধঃ আর্ণিকা, বেলেডোনা, ইগ্নেশিয়া, ইপিকাক, পালসেটিলা, সিকেলি, স্যাবাইনা, কলোফাইলাম

আর্ণিকাঃ আঘাত লাগিয়া গর্ভস্রাব, সমুদয় শরীরে টাটানি ব্যথা, প্রসব বেদনার ন্যায় বেদনা ও তৎসহ রক্তস্রাব।

বেলেডোনাঃ উজ্জল লাল রক্তস্রাব, পৃষ্ঠদেশে বেদনা, যোনিদ্বারে দিয়ে সব কিছু বাহির হইয়া পড়িবে এইরুপ ব্যথা অনুভব, বেদনা হঠাৎ আসে ও হঠাৎ যায়, দপদপানি মাথাধরা, মাথাঘোরা, গোলামাল ও আলোক অসহ্য।

একোনাইটঃ ভয় পাইয়া গর্ভস্রাব, অস্থিরতা, উদ্বেগ, মৃত্যুভয় সহ রক্তস্রাব।

ইগ্নেশিয়াঃ সর্বদা বিমর্ষভাব ও দীর্ঘনিঃশ^াস ফেলা, শোক দুঃখ জনিত গর্ভস্রাব।

পালসেটিলাঃ নম্র প্রকৃতির স্ত্রীলোক, একবার রক্তস্রাব ও তলপেটে বেদনা, থাকিয়া থাকিয়া রক্তস্রাবের বেগ আসে, শীত শীত বোধ, খোলা বাতাসে উপশম।

সিকেলিঃ গর্ভস্রাবের পর ইহা বিশেষ উপকারী। কাল রঙের দুর্গন্ধযুক্ত প্রচুর রক্তস্রাব, মৃত্যুভয়, দুর্বলতা।

স্যাবাইনাঃ তৃতীয় মাসে গর্ভস্রাব, কনকনানি, বোধ হয় যেন সব কিছু বাহিরে আসতেছে, লালবর্ণ বা চাপচাপ প্রচুর রক্তস্রাব, পৃষ্ঠ হইতে বস্তিকোটর পর্যন্ত বেদনা বিস্তৃতি।

চায়নাঃ রক্তস্রাব জনিত দুর্বল স্ত্রীলোকের গর্ভস্রাব, গর্ভস্রাবের পর রক্তস্রাব, মাথাঘোরা, মাথা ভার, চোখে আধার দেখা, নিদ্রালুতা।

ক্যান্থারিসঃ গর্ভস্রাবের পর ফুল বাহির না হওয়া, পুনঃ পুনঃ মূত্রত্যাগের ইচ্ছা, মূত্রনালীতে জ¦ালা।

ক্যামোমিলাঃ অসহ্য বেদনা, বেদনা থাকিয়া থাকিয়া আসে। বারবার মূত্রত্যাগ, কাল চাপচাপ রক্তস্রাব।

ঔষধ প্রয়োগঃ রোগের অবস্থানুসারে ২০/৩০ মিনিট অন্তর ঔষধ প্রয়োগ করিবে। উপশম হইলে দুই তিন ঘন্টা অন্তর দিবে।

আনুষঙ্গিক নিয়মঃ স্থির ভাবে শয়ন করাইয়া রাখিবে। গর্ভস্রাবের পর ঠিক প্রসবের পরে যেরুপ নিয়ম পালন করিতে হয়, রোগীনিকে ঠিক সেই রুপ নিয়মে বিশেষ তদারকি দরকার। গর্ভাবস্থায় স্বামী সহবাস, অতিরিক্ত ঘৃত মসলা সংযুক্ত খাদ্য আহার প্রভৃতি নিষিদ্ধ।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *