Breaking News

ক্রনিক পাকস্থলী প্রদাহ

ক্রনিক পাকস্থলী প্রদাহ ( Chronio Gastritis )

ইহাতে পরিপাক-শক্তির বিপর্যস্ত অবস্থাসহ বর্ধিত শ্লৈষ্মিক উৎপাদন, পাচক রস বা গ্যাস্ট্রিক যূষ-এর গুনাত্মক ও পরিমাণাত্মক পরিবর্তন এবং পেশী-প্রাচীরের দুর্বলতা হেতু খাদ্যদ্রব্য অনিয়মিত কাল পাকস্থলী মধ্যে আবদ্ধ থাকিয়া শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর পরিবর্তন সাধিত হয় । চলতি ভাবে এমন কতকগুলি পাকস্থলীর বিশৃঙ্খলা অবস্থাকে ক্রনিক গ্যাষ্ট্রাইটিস নাম দেওয়া হয়, যাহাদের অধিকাংশের মধ্যে আদৌ শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর কোন প্রকৃত পরিবর্তন হয় না । ইহাকে ক্রনিক ডিসপেপসিয়াও বলা হইয়া থাকে ।

কারণ-তত্ত্ব – ইহার কারণসমূহকে নিন্মলিখিতভাবে শ্রেণী বিভাগ করা যাইতে পারে –

( ক ) – আহার সম্বন্ধীয় – অনুপযোগী বা অসম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত খাদ্য দ্রব্যাদি এবং অতিশয় মেদযুক্ত দ্রব্যাদি বা প্রচুর শ্বেতসার জাতীয় খাদ্যাদির দীর্ঘকাল গ্রহণ । অতিরিক্ত পরিমাণে উষ্ণ খাদ্যদ্রব্যাদি গ্রহণ । চা, কফি অথবা সুরার আত্যন্তিক ব্যবহার । অনিয়মিত সময়ে বা অতি দ্রুত অথবা উত্তমরূপে চর্বণ না করিয়া খাদ্য গ্রহণ । খাদ্য গ্রহণকালে অতিরিক্ত বরফ জল পান । তাম্রকুটের অপব্যবহার ( বিশেষতঃ চর্বণে ) ।

( খ ) – ধাতুগত বা কনষ্টিটিউশনাল কারণ – অ্যানিমিয়া, ক্লোরোসিস, ক্রনিক যক্ষ্মা, গ্রন্থিবাত ( গাউট ) , বহুমূত্র অথবা মূলগ্রন্থি প্রদাহ সহ ক্রনিক গ্যাষ্ট্রাইটিস প্রায়ই সংশ্লিষ্ট থাকে ।

( গ ) – স্থানীয় বিশৃঙ্খলা – ১ । পাকস্থলীর কর্কটরোগ, ক্ষত এবং প্রসারণ । ২। যকৃতের কাঠিন্য, ক্রনিক হৃৎপিণ্ড ব্যাধি এবং ফুসফুসের কতকগুলি ক্রনিক ব্যাধি ।

( ঘ ) – মৌখিক বিষ-দুষ্টি ( সেপসিস ) – পাইওরিয়া মুখে ঘা, প্রভৃতি এবং ক্রনিক অ্যাপেন্ডিক্স প্রদাহ ।

নিদান-তত্ত্ব > সরল ক্রনিক গ্যাষ্ট্রাইটিসে পাকস্থলী সাধারণতঃ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি বিবর্ণ ও ধূসর এবং নিবিড়ভাবে সংলগ্ন আঠাল শ্লেষ্মা দ্বারা আবৃত থাকে । শিরাগুলি স্ফীত হয় এবং প্রায়ই রক্ত-জমাটের দাগ দেখা যায় । পাইলোরাস বা পাকস্থলীর নিম্নমুখের দিকে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি প্রায়ই অস্বাভাবিক ভাবে রঞ্জিত এবং তাহা বন্ধুর কুঞ্চিত ও ডুমো ডুমো বৃন্তসম্বিত দেখায় । শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি স্বাভাবিক অপেক্ষা অধিকতর সূক্ষ্ম এবং দৃঢ়তর হইতে পারে অথবা তাহা উপত্বকের মত অবস্থা প্রাপ্ত হইতে পারে ।

লক্ষণাবলী > রোগ অনির্দিষ্টকাল স্থায়ী হয় এবং অন্যান্য বহু ক্রনিক ব্যাধির ন্যায় সময়ে সময়ে রোগের অবস্থার পরিবর্তন হয় । এই রোগে ক্ষুধার অবস্থা পরিবর্তনশীল, কখনও কখনও বিশেষ হ্রাসপ্রাপ্ত হয়, কখনও কখনও বেশ ভালই থাকে । প্রাথমিক লক্ষণাদির মধ্যে আহারাদির পর অস্বস্তি প্রকাশ পায়, উহা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়া প্রকৃত বেদনায় পরিণত হইতে পারে । পাকস্থলী শূন্য থাকিলে তথায় বেদনাদায়ক অনুভুতিও থাকিতে পারে । বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেদনার প্রকৃতি বিভিন্ন – তুচ্ছ অথবা অতিশয় তীব্র হইতে পারে । বেদনা হৃৎপিণ্ডস্থানে বক্ষাস্থির নিম্নে সীমাবদ্ধ হইলে তাহা বুক-জ্বালা বা হার্ট-বার্ন অথবা কখনও কখনও কার্ডিয়ালজিয়া নামে অভিহিত হয় । পাকস্থলীর উপর চাপ দিলে বেদনা ( বিক্ষিপ্ত ও অতীব্র ) প্রকাশ পায় । মুখে বিশ্রী আস্বাদ এবং জিহ্বা ক্লেদাবৃত ও তাহার অগ্রভাগ ও পার্শ্বদেশ প্রায়ই লাল হইয়া থাকে । লালা ও কণ্ঠস্রাব বৃদ্ধি পাইতে পারে । বিবমিষা প্রথম হইতেই দেখাদেয় এবং প্রাতঃকালেই তাহা আবির্ভাবপ্রবণ – কিন্তু ইহা পাকস্থলীতে ক্যান্সার রোগের মত সর্বক্ষণই লাগিয়া থাকে না এবং মৃদুরোগে আদৌ না থাকিতেও পারে । গ্যাস উদ্গার, আহারের পর কয়েক ঘণ্টা চলিতে পারে এবং তাহার সহিত উদরস্ফীতিও থাকিতে পারে । উদ্গারের সহিত কটু জলীয় পদার্থ উঠিতে পারে – তাহাকে ওয়াটার-ব্রাশ বলা হয় । আহারের অব্যবহিত পরে বা তাহার ২/১ ঘণ্টা পরে বমন, কিন্তু তাহা সকল সময়ে হয় না । পুরাতন মদ্যপায়ীদিগের এই রোগে প্রাতে বমন সাধারণ এবং বমনের সহিত আঠাল শ্লেষ্মা নির্গত হয় । কোষ্ঠবদ্ধতা – কখনও কখনও উদরাময় হইতে পারে এবং মলের সহিত অজীর্ণ খাদ্যদ্রবাদি দ্রুত বহির্গত হয় । মুত্র – স্বল্প, ঘোরবর্ণের এবং তাহাতে প্রচুর ইউরেটের তলানি পড়ে ।

অন্যান্য লক্ষণাবলীর মধ্যে শিরোবেদনা সাধারণ, রোগী সর্বদাই অসুস্থতা বোধ করে, ক্রমে অবসন্ন হয় এবং বিষণ্ণ হইয়া থাকে । বৃদ্ধিপ্রাপ্ত রোগে চিত্ত-বিষাদ বা মেলানকোলিয়া দেখা দিতে পারে । কোন কোন ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা ( ভার্টিগো ) বিশেষ প্রকট হয় । নাড়ী ক্ষুদ্র, কখনও কখনও ধীর এবং তাহার সহিত হৃদস্পন্দন বা প্যালপিটেশান দেখা দিতে পারে । জ্বর হয় না । রোগী ক্রমশঃ দুর্বল হইয়া পড়ে ।

রোগ-নির্ণয় – সর্বপ্রথমে রোগ নিজ পাকস্থলীর বিকারবশতঃ মুখ্য ব্যাধি অথবা অন্যত্র উদ্ভূত রোগের গৌণ পরিণতি স্বরূপ উদ্ভব হইয়াছে কি না তাহা নির্ণয় করিতে হইবে । ইহাতে রোগের ইতিহাস, পরিণতি, প্রভৃতি সকল বিষয় সম্যকরূপে অনুধাবন করা আবশ্যক । লক্ষণাদি প্রকৃতই পাকস্থলীর বিকার হইতে উদ্ভূত হইয়াছে কি না অথবা অন্য বস্ত্রাদি, যথা যকৃত, পিত্তথলি, অ্যাপেন্ডিক্স অথবা অগ্ন্যাশয় ( প্যানক্রিয়াস ) সম্ভূত কোন রোগের জন্য লক্ষণাদি প্রকাশ পাইতেছে তাহা নির্ধারণ করা কর্তব্য । পাকস্থলীর ক্যান্সার রোগের সহিত, বিশেষতঃ তাহাতে যদি কোন টিউমার বর্তমান না থাকে, ক্রনিক গ্যাষ্ট্রাইটিসের পার্থক্য নির্ণয় করা বিশেষ দুরহ এরূপ ক্ষেত্রে পাকস্থলীর আধেয় বস্তুসমূহের ( কনটেন্টস ) পরীক্ষা এবং রঞ্জনরশ্মির ( এক্স-রে ) সাহায্যে সাধারণতঃ সন্দেহ নিরাকৃত হয় ।

ভাবী ফল > ইহা সুচিকিৎসিত হইলে ধীরে ধীরে আরোগ্য হয় । অন্যথায় ইহা হইতে পাকস্থলীর ক্ষত অথবা ক্যান্সার হইতে পারে ।

চিকিৎসা > পীড়ার উৎপত্তির কারণ অনুসন্ধান করিয়া চিকিৎসা তদনুসারে পরিচালিত করিতে হইবে । মদ্য, চা ও ধূমপান এবং অধিক মসলা ও ছোবড়াযুক্ত গুরুপাক দ্রব্যাদি ভোজন সম্পূর্ণ বর্জন করিতে হইবে । প্রতিদিন প্রাতঃকালে এক গেলাস গরম জল পান করা উপকারী । প্রতিদিন যাহাতে কোষ্ঠ পরিষ্কার হয় তাহার ব্যবস্থা করিতে হইবে ; এজন্য গরম জলের সহিত ঈশফগুলের ভুষি অথবা লিকুইড প্যারাফিন ব্যবহার করা চলে । সর্বদা লঘু পথ্য গ্রহণ করা উচিৎ – এজন্য মাখন তোলা দুধ, সুজি, পুরাতন চাউলের সুসিদ্ধ ভাত, সহজপাচ্য তরকারী, প্রভৃতি গ্রহণ করা চলে ।

ঔষধাবলী > নিম্নে পাকস্থলী-প্রদাহের কতকগুলি প্রধান ঔষধের লক্ষণাবলীর সংক্ষিপ্ত-সার প্রদত্ত হইল ।

একোনাইট – ঠাণ্ডা লাগিয়া পীড়ার উৎপত্তি হইলে উপকারী । পাকস্থলীতে ছুঁচ ফোটান ও জ্বালাযুক্ত বেদনাসহ জ্বর, অত্যধিক পিপাসা, বমন, অস্থিরতা, উদ্বেগ ও মৃত্যুভয় ।

অ্যান্টিম ক্রুড – সম্পূর্ণ ক্ষুধা লোপ, পুরু সাদা লেপাবৃত জিহ্বা, রাত্রিকালে অত্যন্ত পিপাসা ; বিবমিষা, বমন, ভুক্তদ্রব্যের স্বাদবিশিষ্ট উদ্গার ।

এপিস – উদরোর্ধ্বে জ্বালা ও বেদনা, তথায় স্পর্শ সহ্য হয় না ; উদরে টাটানি যন্ত্রণা ; বেদনাবিহীন, হলুদবর্ণের মলবিশিষ্ট উদরাময় ।

আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম – অগ্রকড়া ও নাভির মধ্যবর্তীস্থলে ক্ষুদ্র স্থানে মৃদু চাপেও অত্যধিক যন্ত্রণা বোধ ; আহারের পর উদরে ক্ষতবৎ বেদনা, অম্ল-বমন ; বুকের মধ্যে যন্ত্রণাবোধ; উদরাধ্নান, ক্রমাগত উদ্গার ।

আর্ণিকা – পেটে আঘাত লাগিবার ফলে পীড়ার উৎপত্তি ; উদরোর্ধ্বে ভার বোধ ; পুনঃপুনঃ পচা ডিমের ন্যায় গন্ধযুক্ত উদ্গার ; মস্তক উত্তপ্ত, শরীরের অন্যান্য অংশ শীতল ।

আর্সেনিক – বরফ, বরফজল, আইসক্রিম, বাসিপচা খাদ্যাদি, দোক্তা চর্বণ, অত্যধিক মদ্যপান, প্রভৃতি কারণে পীড়ার উৎপত্তি । উদরে অসহ্য যন্ত্রণায় রোগী উদ্বিগ্নভাবে কাতর আর্তনাদ করিতে থাকে ; মুখ শুষ্ক ; অত্যধিক পিপাসা, পুনঃপুনঃ স্বল্পমাত্র জলপান, জলপান মাত্রই বমন ও অসহ্য গলা ও বুক জ্বালা । অত্যধিক দুর্বলতা, অবসন্নতা, অস্থিরতা, মৃত্যু ভয় ।

বেলেডোনা – পাকস্থলীতে কর্তনবৎ বেদনা – সামান্য চাপে, নড়াচড়ায় ( এমন কি শয্যায় ঝাঁকি লাগিলেও ) বৃদ্ধি; শ্বাস-কষ্ট, উদ্বেগ, মস্তকে উত্তাপ বোধ, ঝাপসা দৃষ্টি, মূর্ছার ভাব, অস্থিরতা, অনিদ্রা, অত্যধিক পিপাসা, কিন্তু জলপান করিলে যন্ত্রণার বৃদ্ধি হয় বলিয়া রোগী জলপান করে না ।

ব্রায়োনিয়া – গ্রীষ্মকালে, বিশেষতঃ শরীর উত্তপ্ত হইলে তদাবস্থায় শীতল জল পানের পর পাকস্থলীতে তীব্র খচখচানি বেদনা, সামান্য নড়াচড়ায় বৃদ্ধি, অতিরিক্ত পিপাসাসহ রোগী অত্যধিক জলপান করে ।

ক্যান্থারিস – পাকস্থলীতে তীক্ষ্ণ শূলসহ প্রবল বমনোদ্বেগ ও বমন, পাকস্থলী মধ্য হইতে সমগ্র অন্ত্রপথে অসহ্য উত্তাপ ও জ্বালা, অদম্য পিপাসা সত্ত্বেও কিছুই পান করিতে ইচ্ছা হয় না, বিবর্ণ ও উদ্বেগপূর্ণ কাতর মুখাবয়ব, মুত্রকৃচ্ছতা, অত্যধিক অস্থিরতা – আদৌ স্থির থাকিতে পারে না ।

কার্বোভেজ – ক্রমাগত অম্ল ও দুর্গন্ধযুক্ত উদ্গার, পাকস্থলী মধ্যে জ্বালা, অত্যধিক উদরাধ্নান, অম্লদ্রব্য পানাহারের ইচ্ছা, আহারের অত্যাচারে, বরফ, আইসক্রিম বা বাসিপচা দ্রব্যাদি আহারের ফলে পীড়ার উৎপত্তি

ইপিকাক – পেটের মধ্যে কাটিবার ন্যায় বেদনা – তাহা চতুর্দিকে ছড়াইয়া পড়ে । বিবমিষা ও বমনের আতিশয্য ইহার বিশেষত্ব । মুখ ভরিয়া জল উঠে, সুপক্ক অম্ল ফল, টক, ঝাল প্রভৃতি আহারের পর উদরাময় সহ শূল-বেদনা ।

আইরিস ভার্স – পাকস্থলী হইতে গলা পর্যন্ত আগুনের ন্যায় জ্বালাকর ক্ষণে ক্ষণে উদরোর্ধ্বে শূল, প্রবল বমন ও উদরাময়, মলত্যাগের পর মলদ্বারে জ্বালা, শিরঃপীড়া সহ ঝাপসা দৃষ্টি, দুর্বলতা ।

ক্যালি বাইক্রম – পাকস্থলী মধ্যে জ্বালা ও যন্ত্রণা স্বচ্ছ শ্লেষ্মামিশ্রিত অম্ল-বমন অথবা পিত্তমিশ্রিত তিক্ত-বমন – পানাহারে বমন বৃদ্ধি ।

নাক্স ভমিকা – মুখমধ্যে তিক্ত বা অম্ল আস্বাদ, অম্ল উদ্গার, পাকস্থলী মধ্যে পূর্ণতা ও ভারবোধ সহ খিচুনি বেদনা, কোষ্ঠবদ্ধতা, শিরঃপীড়া, শিরোঘূর্ণন, খিটখিটে মেজাজ, প্রাতঃকালে, মুক্তবায়ুতে ও আহারের পর বৃদ্ধি, নানাপ্রকার টনিক ও পেটেন্ট ঔষধাদি, মদ্য, কফি, চা প্রভৃতির অপব্যবহারে রোগের উৎপত্তি, শারীরিক শ্রমবিমুখ ব্যক্তিগণের রোগ ।

ফসফরাস – পাকস্থলীর মধ্যে কাটিবার ন্যায় জ্বালাযুক্ত বেদনা , প্রবল পিপাসা, কফিচূর্ণ অথবা মসীবর্ণের দুর্গন্ধযুক্ত অম্লবমন – রক্তবমন, শীতল জলপানে নিবৃতি, জলপান করিবার কিছুক্ষণ পরই বমন ।

পডোফাইলাম – আহারের পরই ভুক্তদ্রব্য অম্লে পরিণত হয়, উতপ্ত এবং অত্যধিক অম্ল উদ্গার, প্রবল পিপাসা, বিবমিষা ও বমন, বমনকালে পাকস্থলী মধ্যে তীব্র খিঁচুনি হইয়া রোগী চীৎকার করে – রক্তমিস্রিত পিত্তময় বমন ।

পালসেটিলা – আইসক্রিম, ঘৃতপক্ক দ্রব্য, অধিক তৈলাক্ত বৃহৎ মৎস্য, প্রভৃতি গ্রহণের ফলে রোগের উৎপত্তি । উদরোর্ধ্বে খচখচানি বেদনা, অখুধা, পিপাসাহীনতা, মুখে তিক্তস্বাদ, সকল খাদ্যই তিক্ত বোধ হয়, পাকস্থলীর বিকার সহ শীতার্ততা ।

রিউমেক্স – উদরোর্ধ্ব হইতে বুকের মধ্যে চতুর্দিকে পরিব্যাপ্ত তীব্র বেদনা, উদরোর্ধ্ব হইতে একটি কঠিন পিণ্ড গলা বাহিয়া উঠে, ঢোঁক গিলিলে তাহা নামিয়া জাও, কিন্তু পরক্ষণেই তাহা ফিরিয়া আসে । উদরাধ্নান, উদ্গার, আহারের পর উদরাধ্নানসহ পেটে চাপ বোধ ।

ভিরেট্রাম আল্বাম – অবিরাম বিবমিষা সহ প্রবলভাবে বমন এবং তৎসহ অবসন্নতা, মৃতবৎ মুখাবয়ব ও হস্তপদাদি শীতল হয়, পাকস্থলী হইতে বেদনা চতুর্দিকে বিস্তৃত হইয়া অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক হইয়া ধীরে ধীরে হ্রাস পায়, কখনও কখনও রক্ত-বমন হয় এবং সর্বাঙ্গে শীতল ঘর্ম, ধীর নাড়ী, মূর্ছার ভাব, সর্বাঙ্গের শীতলতা, প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায় ।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *