Breaking News

এনিমিয়া

এনিমিয়া ( ANAEMIA )

দেহমধ্যে রক্তের পরিমাণের স্বল্পতা অথবা রক্তমধ্যে রক্তকণিকাসমূহ বা তাহার অন্য কোন উপাদানের স্বল্পতাকে এনিমিয়া বলা হয় । রক্ত সৃজনের ব্যাঘাত, ব্যায়াধিক্য অথবা আকস্মিক বা ক্রমবর্ধনশীল রক্তক্ষয় ইহার কারণ । ইহা স্থানীয় বা লোকাল – দেহাংশ সীমাবদ্ধ এবং ব্যাপক বা জেনারাল – সর্বদেহে বিস্তৃত হইতে পারে ।

আমাদের শরীরে রক্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লোহিত রক্তকণিকা, আর
লোহিত রক্তকণিকার প্রাণ হচ্ছে হিমোগ্লোবিন । এই হিমোগ্লোবিনের কাজ হলো ফুসফুস থেকে দেহকোষে অক্সিজেন পরিবহন করা । আবার আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন । কোনো কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বা পরিমাণ কমে গেলে সেই অবস্থাকে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা বলা হয় ।

এখন আমরা আলোচনা করব এনিমিয়ার শ্রেণী বিভাগ নিয়ে !

ব্যাপক বা জেনারেল এনিমিয়াকে প্রাইমারী বা মূলরোগরূপে প্রকাশিত ( এসেনসিয়াল ) ও সেকেন্ডারি বা লক্ষণরূপে প্রকাশিত ( সিস্টেম্যাটিক ) এই দুই শ্রেণীতে বিভাগ করা যাইতে পারে । অ্যান্টি-এনিমিক হরমোনের অভাববশতঃ রক্তসৃজনের ব্যাঘাত ঘটিবার ফলে স্বল্পকালস্থায়ী, অপুষ্ট ও বিকৃত লোহিত রক্ত-কণিকা সমূহ রক্তপ্রবাহমধ্যে প্রবিষ্ট হইবার ফলে যে রক্তহীনতা প্রকাশ পায় তাহাকে প্রাইমারী এনিমিয়া বলা হয় । সহসা অতিরিক্ত বা দীর্ঘকাল মন্দ মন্দ রক্তস্রাব অথবা অন্যবিধ রোগের ফল স্বরূপ যে রক্তহীনতা উপস্থিত হয় তাহাকে সেকেন্ডারি এনিমিয়া বলা হয় ।

প্রাইমারী এনিমিয়াকে পার্ণিসাস এনিমিয়া ও ক্লোরোসিস এই দুই শ্রেণীতে বিভাগ করা হয় । সেকেন্ডারি এনিমিয়াও অ্যাকিউট ও ক্রনিক হইতে পারে । পাকস্থলী প্রভৃতি বিভিন্ন স্থান হইতে সহসা প্রচুর রক্তস্রাবের ফলে অ্যাকিউট সেকেন্ডারি এনিমিয়া হইতে পারে । ক্ষতযুক্ত এন্ডোকার্ডাইটিস প্রভৃতি জীবাণু সংক্রমক রোগসমূহ, সীসক প্রভৃতি রাসায়নিক দ্রব্যসমূহের বিষক্রিয়া অথবা অর্শ প্রভৃতি হইতে দীর্ঘকাল মন্দ মন্দ রক্তস্রাবের ফলে ক্রনিক সেকেন্ডারি এনিমিয়া হয় ।

আমরা আরও এক ধরনের এনিমিয়া রোগী পাব । পার্ণিসাস এনিমিয়া বা এডিসোনিয়ান এনিমিয়া । তাঁর পর পাব ক্লোরোসিস ইহা যুবতী স্ত্রীলোকগণের একটি বিশিষ্ট শ্রেণীর রক্তহীনতা রোগ । ইহাতে গাত্রবর্ণ সবুজ আভাজুক্ত হয় বলিয়া ইহাকে গ্রীন সিকনেসও বলে ।

<> এনিমিয়ার কারণ ( Aetiology ) <>

★ পরিপাক ক্রিয়ার অভাব
★ অল্পাহার, অনাহার, পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব
★ রসরক্তাদির ক্ষয়, প্রচুর রক্তস্রাব; দীর্ঘকাল স্থায়ী পুঁজ স্রাব; পুরাতন উদরাময়
★ সামান্য পরিশ্রম করতে পারে না, বুক ধড়ফড় করে, মূর্ছাভাব, হাত পা ঠাণ্ডা
★ ক্ষুধাহীনতা ও দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস
★ পায়ে শোথ
★ কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ শব্দ, শারীরিক উত্তাপ কম, ক্ষতাদি শুকোতে চায় না, আঙ্গুলের অগ্রভাগ টিপলে রক্তহীনতার ভাব প্রকাশ ।
★ রেড ব্লাড সেল অত্যধিক মাত্রায় ধ্বংস হলে অ্যানিমিয়া হতে পারে । একে হিমোলেটিক অ্যানিমিয়া বলে । সাধারণত ইনফেকশন থেকে হিমোলেটিক অ্যানমিয়া হয় । এছাড়া যেসব কারণে অ্যানিমিয়া হতে পারে-
★ কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে ।
★ বেশি পরিমাণে রক্তক্ষরণ হলে । সেটা ইনটেসটিনাল ব্লিডিংয়ের জন্যও হতে পারে আবার হেভি মেনস্ট্রুয়াল ব্লিডিংয়ের জন্যও হতে পারে ।
★ পর্যাপ্ত পরিমাণে রেড ব্লাড সেল তৈরি না হওয়ার জন্য ।
★ ভাইরাল ইনফেকশনের কারণে ।
★ কিছু কিছু টক্সিক কেমিক্যালের সংসপর্শে এলে ।
★ শরীরে আয়রনের মাত্রা কমে গেলে । হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিহার্য । শিশুদের অ্যানিমিয়ার মূল কারণ কিন্তু এটিই ।
★ জন্মগত কারণে ।
★ পুষ্টির অভাবে বা ভিটামিনের অভাব হলে ।

রোগ নিরূপণ ( Diagnonsis ) <>

শারীরিক পরীক্ষা ( Physical Examination ) <>

১। রক্তহীনতা, ফ্যাকাসে ভাব, টেকিকার্ডিয়া, নাড়ীর গতি মন্থর, সিষ্টোলিক মারমার, শোথভাব ।

Pathological Investigation <> 1. Blood Examination 2. Bone marrow Test 3. Percentage of Haemoglobin is 14`6 gm per 100 cc of Blood . এছাড়াও পরীক্ষা করলে দেখা যায় রোগীর রক্তে Iron এর অভাব Vitamin12 অভাব । রক্ত ক্ষরণের কারণ – অর্শ, হুক ওয়ার্ম, পেপটিক আলসার ।

জটিলতা ( Complications ) <> ( 1 ) Iron Deficiency anaemia ( 2 ) Aplastic Anaemia or Anaemia Gravis ( 3 ) Haemolytic Anaemia ( 4 ) Pernicious Anaemia ( 5 ) Leukaemia ( 6 ) Chrinic Myeloid Leukaemia ( 7 ) Chrinic Lymphatic ইত্যাদি ।

<> রক্তহীনতার চিকিৎসা <>

সেকেন্ডারী অ্যানিমিয়া > শোণিতপাত নিবারণের ব্যবস্থা সর্বপ্রথম কর্তব্য । তৎসহ পুষ্টিকর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর আবহাওয়ায় স্থান-পরিবর্তন দ্বারা শীঘ্রই রোগীর লোহিত রক্ত-কণিকার স্বাভাবিক অবস্থা উপনীত হইতে পারে । উপবাস বা অনাহারজনিত রক্তহীনতায় উপরোক্ত ব্যবস্থা শুভ ফল প্রদান করে । রাসায়নিক পদার্থাদির বিষক্রিয়াজনিত রক্তহীনতায় রক্ত হইতে উক্ত বিষক্রিয়া প্রভাব দূর করা এবং বিশেষ প্রতিষেধক ব্যবস্থা অবলম্বন করা অবশ্য কর্তব্য । অন্যান্য নানাপ্রকার ব্যাধিসংশ্লিষ্ট রক্তহীনতায় মূলরোগের চিকিৎসা বিধেয় ।

ক্লোরোসিস > শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম, যথেষ্ট সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, প্রচুর সূর্যকিরণ উপভোগ, স্বাস্থ্যকর বায়ুপূর্ণস্থানে অবস্থান উষ্ণ জলে স্নান, খাদ্যাদি দ্বারা কোষ্ঠপরিষ্কার রাখিবার ব্যবস্থা, প্রভুতি দ্বারা বিশেষ উপকার পাওয়া যায় । পথ্য হিসাবে টাটকা শাকসব্জি, খরগোস, মুরগী, প্রভৃতির মাংস, ডিম, দুগ্ধ প্রভৃতি উপকারী । পথ্যাদি নির্বাচনে রোগীর পরিপাকশক্তির উপর বিশেষ লক্ষ্য রাখিতে হইবে । লৌহমিশ্রিত জলযুক্ত প্রস্রবণ সমীপে বাস ও সেই জলপানে বিশেষ উপকার হয় ঔষধরূপে লৌহ ব্যবহার করিবার প্রথা প্রচলন আছে, কিন্তু তাহা সমর্থনযোগ্য নহে ।

পার্ণিসাস অ্যানিমিয়া > সর্ববিধ ব্যবস্থা পূর্ববৎ । পশুর যকৃৎ ও অস্থিমজ্জার ক্কাথ সেবনে বিশেষ উপকার হয় । মরণাপন্ন রোগীর শিরামধ্যে রক্ত ইঞ্জেকসান করিবার প্রথাও প্রচলিত আছে ।

ঔষধাবলী > নিন্মে রক্তহীনতার কয়েকটি বিশেষ ঔষধের লক্ষণাবলীর সংক্ষিপ্ত-সার প্রদত্ত হইল

অ্যালুমিনা <> ইহা ক্লোরোসিসের একটি উৎকৃষ্ট ঔষধ । শীতার্ততা ও সর্দিপ্রবণতা এবং মলদ্বারের দুর্বলতাবশতঃ কোষ্ঠবদ্ধতা; ফিকা বর্ণের অতি স্বল্প ঋতুস্রাব ও স্বচ্ছ পীতাভ শ্লেষ্মাময় অত্যধিক প্রদরস্রাব; অত্যধিক দুর্বলতা; প্রাতে নিদ্রাভঙ্গে বিমর্ষভাব; খড়িমাটি, পোড়ামাটি, স্লেট, পেন্সিল প্রভুতি খাইবার প্রবল ইচ্ছা ।

আর্জেন্টাম মেট <> ইহা এবং আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম প্রায় সমলক্ষণে ক্লোরোসিস রোগে উপযোগী । রোগিণী শীর্ণা, বিবর্ণা ও অতিশয় দুর্বল । প্রায়ই মাথা ঘোরে ও হস্তপদাদি কম্পিত হয় ; শ্বাসকষ্ট, প্যালপিটেসান; মুক্ত বায়ুর আকাঙ্ক্ষা; আবদ্ধ ও উষ্ণগৃহ সহ্য হয় না ; কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ শব্দ হয়; প্রায়ই বিবমিষা ও বমন হয়; দুর্গন্ধযুক্ত প্রচুর প্রদর-স্রাব ।

আর্সেনিক <> ইহা লোহিত রক্ত-কণিকা ধ্বংসকারী পদার্থ; ম্যালেরিয়া ও বিষদুষ্টিজনিত ( টক্সিক ) অ্যানিমিয়া ও পার্ণিসাস অ্যানিমিয়ার ইহা অন্যতম ঔষধ । সর্বাঙ্গীণ শীর্ণতা, অতিশয় অবসাদ ও দুর্বলতা; প্রবল পিপাসা – পুনঃ পুনঃ অল্প পরিমাণে জলপান; সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও হৃৎকম্পন; মুখমণ্ডল ও হস্তপদাদির শোথ ; সর্বাঙ্গীণ শোথ ( এনাসার্কা ) ।

ক্যাল্কেরিয়া কার্ব <> ইহার বিষক্রিয়ার লোহিত রক্ত-কণিকা ও হিমোগ্লোবিন এবং লিউকোসাইটস হ্রাস পায় ; তজ্জন্য ইহা রক্তহীনতা, বিশেষতঃ বালিকাগণের ক্লোরোসিস রোগে ফলপ্রদ । সোরা, গণ্ডমালা বা যক্ষ্মা ধাতুগ্রস্ত রোগিণীদিগের পক্ষে বিশেষ উপযোগী । রোগিণী সদাই বিমর্ষ ও আশঙ্কিত । অপরের কষ্টভোগের বা অন্যবিধ মন্দ সংবাদ শুনিলে বা উত্তেজনাবশতঃ মস্তকে রক্ত প্রবাবিত হয় ও মাথা ঘোরে ; পদদ্বয় সর্বদাই শীতল থাকে ; রাত্রে শুষ্ক কাশি, শরীরাংশ ঘর্ম, দক্ষিণ কণ্ঠাস্থির নিন্মস্থানে বেদনা ; ঘন ঘন প্রচুর পরিমাণে ঋতুস্রাব । ক্যাল্কেরিয়া আর্স, আর্সেনিক ও ক্যাল্কেরিয়া এতদুভয়ের লক্ষণমিশ্রণে ইহা অ্যানিমিয়া ও ক্লোরোসিস রোগের একটি মুল্যবান ঔষধ । রোগিণী স্থূলাঙ্গী ও শীতকাতর ; সামান্য মনোবিকারেই অত্যধিক প্যালপিটেসান হয় । হিমোগ্লোবিন ও লোহিত রক্ত-কণিকা হ্রাস পায় ।

ক্যাল্কেরিয়া ফস <> ক্যাল্কেরিয়া কার্বের লক্ষণাবলীসহ ফসফরাসের ন্যায় শীর্ণা ও কৃশাঙ্গীদিগের অ্যানিমিয়া বা ক্লোরোসিস রোগে উপকারী ।

চায়না <> অতিরিক্ত রক্তস্রাব, রেতঃপাত, অধিক দিন স্তন্যদান, দীর্ঘস্থায়ী পুঁজ সঞ্চয়, প্রভৃতি বশতঃ অ্যানিমিয়া । কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ করে ; প্রায়ই মূর্ছা হয়, অগ্নিমান্দ্য, উদরাধ্নান ; মধ্য রাত্রের পর ও আহারের পর উদরাময়, ফল বা দুধ সহ্য হয় না ।

ম্যাঙ্গানাম <> ইহাও ক্লোরোসিস, এমন কি পার্ণিসাস অ্যানিমিয়ায় বিশেষ উপকারী । ইহাতে রক্তস্রাবের কোন ইতিহাস পাওয়া যায় না, পরন্তু স্বল্প ঋতু বর্তমান থাকে । রোগিণী অত্যধিক দুর্বলতা বোধ করে এবং সর্বক্ষণই শুইয়া থাকিতে চায় ; মাথা ব্যথা ; রোগিণী বিমর্ষা, খিটখিটে ও নীরবে রোদনপরায়ণা ।

চিনিনাম আর্স <> দীর্ঘস্থায়ী পুঁজসঞ্চার ও রক্তস্রাববশতঃ ক্রমবর্ধমান অ্যানিমিয়া ; পার্ণিসাস অ্যানিমিয়া ।

ফেরাম মেট <> রোগিণীর মুখমণ্ডল, মুখগহ্বর, তালু, ওষ্ঠ ও সর্বস্থানের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী অত্যধিক নিরক্ত এবং সাদা দেখায়, কিন্তু ক্রোধ, বিরক্তি, প্রভৃতি মানসিক উত্তেজনাই মুখমণ্ডল উজ্জল লালবর্ণ ধারণ করে । দপদপানি শিরঃপীড়া, সর্বাঙ্গের দপদপানি ও প্যালপিটেসান ; গ্রীবাস্থ জুগুলার শিরার উপর হীমিক মার্মার শুনা যায় ; সর্বক্ষণ শীতবোধসহ সন্ধ্যায় প্রলেপক বা হেকটিক জ্বরবোধ ; অগ্নিমান্দ্য । আহার করিবামাত্র বিবমিষা ও বমন ; ফিকা বর্ণের প্রচুর ঋতুস্রাব; অত্যধিক দুর্বলতা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে চলিয়া বেড়াইলে উপশম বোধ করে, কিন্তু শীঘ্রই অবসন্ন হইয়া পড়ে । ইহা ক্লোরোসিস রোগে অ্যাল্বুমিনার ও রক্তক্ষয়জনিত অ্যানিমিয়া রোগে চায়নার অনুপূরক ।

গ্র্যাফাইটিস <> স্থূলাঙ্গ ও সর্বক্ষণ শীতকাতর ব্যক্তিগণের রক্তহীনতা ; কোষ্ঠবদ্ধতা ; গাত্র-ত্বক কর্কশ ও নানাস্থানে ফাটিয়া যায় ; চর্মরোগপ্রবণতা ; রক্ত সুস্পষ্টভাবে জলবৎ দেখায় ও শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধি পায় ; বিলম্বিত অতি স্বল্প জলবৎ বর্ণহীন ঋতু এবং প্রচুর প্রদরস্রাব ; অতিশয় বিষণ্ণতা ও অস্থিরতা ; লক্ষণসাদৃশ্য থাকায় ইহা ফেরামের কার্যানুপূরণ করে ।

নেট্রাম মিউর <> দীর্ঘকাল ম্যালেরিয়া ভোগ বা কুইনাইনের অপব্যবহারবশতঃ অ্যানিমিয়া ; শীর্ণ, বিশুষ্ক মুখমণ্ডল ও সর্বাঙ্গীণ শীর্ণতা ; অনিয়মিত ঋতু; ২/৩ মাস অন্তর জলবৎ বর্ণহীন স্বল্প ঋতুস্রাব – প্রদরস্রাবের ন্যায় ঋতুস্রাব । অঙ্গুলি কাটিয়া গেলে জলবৎ বর্ণহীন রক্তপাত হয় । কোষ্ঠবদ্ধতা ; কোষ্ঠকাঠিন্যবশতঃ মলদ্বার বিদীর্ণ হইয়া রক্তপাত হয় । পক্ষসঞ্চালনের ন্যায় প্যালপিটেসান – তজ্জন্য সর্বশরীর কম্পিত হয়, সর্বশরীরে দপদপানি অনুভব, প্রবল শিরঃপীড়ায় মস্তক ফাটিয়া যাইবে বলিয়া মনে হয় । তিক্ত, লবণাক্ত ও অম্ল দ্রব্যাদি খাইবার ইচ্ছা । বিমর্ষ ও খিটখিটে মেজাজ, হঠাৎ কোন শব্দ হইলে প্যালপিটেসান বৃদ্ধি পায়, সান্তনাদানে কষ্ট হয় ।

নেট্রাম আর্স <> আর্সেনিক ও নেট্রাম মিউরের পরিবর্তে অনেক সময় উপকার দর্শায় ।

ক্যালি-কার্ব <> অ্যানিমিয়াসহ শীতার্ততা ; শিরোঘূর্ণন, কর্ণনাদ, হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতা, সার্বাঙ্গীন ঘর্ম ও কটি-বেদনা । ইহা প্রায়ই নেট্রাম মিউরের পর উত্তম ফলপ্রদ ।

ফসফরাস <> অতিরিক্ত রক্তস্রাব ও শুক্রাদিক্ষয়জনিত অ্যানিমিয়া । অতিশয় দীর্ঘ ও কৃশ দেহ, শীর্ণবক্ষযুক্ত যক্ষ্মা রোগপ্রবণ ধাতু । সহজেই সর্দি হয় । শীঘ্র শীঘ্র অধিক পরিমাণে উজ্জল লাল ঋতুস্রাব । বিকল্প ( ভিকোরিয়াস ) ঋতু ; দীর্ঘস্থায়ী উদরাময়, অত্যধিক পিপাসা – শীতল জল ো শরবৎ পানের ইচ্ছা, প্রায়ই বুক ধড়ফড় করে ও মাথা ঘোরে । রক্তহীনতাসহ ন্যাবা ।

ফেরাম ফস <> ফেরাম ও ফসফরাসের মিলিত লক্ষণে বিশেষ উপযোগী ।

হাইড্রাসটিস <> ক্যান্সার প্রভৃতি রোগসহ রক্তহীনতা ; প্রায়ই মূর্ছা হয় । অত্যধিক শীর্ণতা ও অবসন্নতা, গাত্র ত্বকের হলুদাভ সাদা বর্ণ ।

পালসেটিলা <> কুইনাইন বা লৌহযুক্ত ঔষধের অপব্যবহারজনিত রক্তহীনতা; ক্লোরোসিস, সদাই শীতার্ততা সত্ত্বেও গৃহের উষ্ণতা সহ্য করিতে পারে না – মুক্তবায়ুতে উপশম বোধ, স্থূলাঙ্গী ও রক্তহীন পাণ্ডুবর্ণযুক্ত রমণীর বিলম্বিত, স্বল্প, গাঢ় ও বিশেষ ক্লেশপ্রদ ঋতুস্রাব । বিমর্ষা ও ক্রন্দনশীলা-সহানুভূতিপ্রিয়া । বুকের মধ্যে যন্ত্রণাবোধসহ শ্বাসকষ্ট প্যালপিটেসান, এক বা উভয় পার্শ্বের কণ্ঠাস্থির নিন্মে বেদনা, সর্বাঙ্গে জ্বালাবোধ, পিপাসাহীনতা, অগ্নিমান্দ্য, উদরাময় ।

সাইক্লেমেন <> ইহা সর্বাংশেই পালসেটিলার সমতুল্য, কিন্তু ইহাতে যথেষ্ট পিপাসা থাকে এবং রোগিণী মুক্তবায়ু সহ্য করিতে পারে না । উপবিষ্ট অবস্থা হইতে দণ্ডায়মান হইলেই মাথা ঘোরে – এই লক্ষণ উভয় ঔষধেই সমভাবে বর্তমান ।

হেলোনিয়াস <> অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা বিলাসহেতু ভগ্নস্বাস্থ্য রমণীগণের দীর্ঘস্থায়ী রক্তস্রাবজনিত অ্যানিমিয়া বা ক্লোরোসিস । বিষাদ ও নিদ্রাহীনতা ; রোগিণী সদাই শ্রান্ত ও দুর্বল – সর্বক্ষণই কটিবেদনা । কোন কাজে ব্যাপৃত থাকিলে সুস্থবোধ করে ।

পিক্রিক অ্যাসিড <> পার্ণিসাস অ্যানিমিয়াসহ অত্যধিক দুর্বলতা ও অবসন্নতা, মেরুদণ্ড বাহিয়া জ্বালাবোধ – উত্তেজনায় বৃদ্ধি ।

সিপিয়া <> ইহা সর্বলক্ষণেই পালসের তুল্য, কিন্তু মানসিক ক্ষেত্রে পৃথক । ইহাতে রোগিণী বড়ই খিটখিটে ও উগ্রমেজাজযুক্ত, সাংসারিক কাজে বিরক্তি ও অনিচ্ছা ।

সিকেলী <> ক্রমবর্ধমান রক্তহীনতা, শীর্ণদেহ এবং পাণ্ডুবর্ণ, রক্তহীন, ন্যাবার ন্যায় বর্ণযুক্ত গাত্র-ত্বক, সমগ্র শরীর শীতল, কিন্তু উষ্ণতা সহ্য হয় না ।

সালফার <> ইহা অন্যান্য ঔষধাবলীর ক্রিয়াশক্তির উদ্দীপনা বৃদ্ধি করিবার জন্য পায়ই প্রয়োজন হয় । ক্ষণে ক্ষণে উত্তাপের ঝলক অনুভব, মস্তক –শীর্ষ উত্তপ্ত, পদতলদ্বয়ে জ্বালা, মধ্যরাত্রে শ্বাসকষ্ট বোধ সহ নিদ্রাভঙ্গ হয় এবং মুক্ত বায়ুর আশায় দরজা জানালা খুলিয়া দিতে বলে ; পূর্বাহ্ণে পাকস্থলী মধ্যে দুর্বলতা ও নিমগ্নতা বোধ এবং তজ্জন্য শারীরিক অবসন্নতা – কিছু খাইলেই উপশম বোধ ।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *