Breaking News

একজিমা

সংজ্ঞাঃ একপ্রকার সংক্রামক জাতীয় ভয়ংকর চর্মরোগ। জ্বালাকর জলপূর্ণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লাল বর্ণের ফুসকুড়ি। চুলকাতে চুলকাতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, তাকে একজিমা বলে।

কারণঃ
১) এক শ্রেণীর এলার্জি থেকে উৎপন্ন, পরে নানা জীবাণুর দ্বারা বিস্তৃত হয়।
২) অনেকের বংশগত কারণে হয়।
৩) সোরাগ্রস্থ ও রক্তদুষ্টিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হতে পারে।
৪) সোডা বা সাবানের অত্যাধিক ব্যবহার।
৫) মাতৃদুগ্ধের দোষ ও নোংড়া জীবন যাপন।

লক্ষণঃ
১) ছোট ছোট ফুসকুড়ি ও প্রদাহ, তা থেকে রস নিঃসৃত অত্যন্ত চুলকায়।
২) বেদনার সৃষ্টি হয়, সুড় সুড় করে, চুলকালে ভাল লাগে।
৩) ঘায়ের সৃষ্টি হয়, শরীরের নানাস্থানে ছড়িয়ে পড়ে, ক্ষত হতে জলের ন্যায় পাতলা পুঁজ নিঃসৃত হয়।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ

আর্সেনিক আয়োডঃ দাড়িতে একজিমা, মামড়ি যুক্ত, জ্বালাপোড়া। চুলকানি, জলের ন্যায় পাতলা রস নিঃসৃত হয়; ধুলে বা গোসল করলে বৃদ্ধি, শরীরের শীর্ণতা।

সোরিনামঃ শুষ্ক মামড়িযুক্ত বা রসস্রাবী একজিমা। অতি পাতলা রস সর্বদা নিসৃত হয়। রস যেখানে লাগে সেখানে হেজে যায়। কানের পিছনে অসহ্য চুলকানি। ঠান্ডা বাতাসে ভয়। গরমে উপশম এবং বিছানার গরমে বৃদ্ধি।

পেট্রোলিয়ামঃ অসহ্য চুলকানি; জ্বালাপোড়া ভাব, শুষ্ক বা রসস্রাবী। চুলকানির জন্য রাত্রে ঘুমাতে পারে না। ফাটা ফাটা রক্তাভ একজিমা, দীর্ঘস্থায়ী রোগ। গ্রীষ্মকালে উপশম, বর্ষায় ও শীতকালে বৃদ্ধি।

ব্যারাইটা কার্বঃ রোগী দেখতে খর্বাকৃতি, গন্ডমালা দোষগ্রস্ত। অতি সহজে ঠান্ডা লাগে, অসহ্য চুলকানী। মুখ ফোলা, মনে হয় মুখে মাকড়সার জাল জড়িয়ে আছে।

টেলুরিয়ামঃ কানের পশ্চাতে একজিমা, বৃত্তাকার, মামড়িযুক্ত। পায়ে ঘাম, হাতে পায়ে চুলকানি, প্রবল চুলকানি। আক্রান্ত স্থান হতে দুর্গন্ধ ছাড়ে, হুল ফুটানো ব্যথা। একজিমা চক্রাকারে হয়, দাদ, চক্রাকার দাদ।

হাইড্রোকোটাইলঃ দুই যন্ত্রে মধ্যবর্তী স্থান স্ফীত, প্রদাহ ভাব। চিবুকের বামদিকের হাড়ে বেদনা। শুষ্ক উদ্ভেদ। মোটা মোটা আইসের মত ছাল উঠে। পায়ের তলায় অসহ্য চুলকানি, প্রচুর ঘাম।

আর্সেনিক এলবামঃ শুষ্ক একজিমা, শরীরের সন্ধিস্থলে, চামড়ার ভাঁজে বেশী দেখা যায়। চুলকালে উহা হতে আটার ভূসি বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাছের আঁইশের মত একপ্রকার পদার্থ উঠে, রোগী পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, সৌখিন, শীতকাতর, অবসন্নতা, অন্তদাহ, মৃত্যুভয়, পুনঃপুনঃ সামান্য জল পিপাসা এবং উত্তাপে রোগের উপশম হলে ইহা কার্যকরী।

আর্টিয়াম লাপ্পাঃ রোগীর মাথায়, নাকে, মুখে, কানের গোড়ায় একজিমা। সর্বদাই রসে ভিজা ভিজা থাকে, তাতে অত্যন্ত দুর্গন্ধ, ঘাড়ের উপর সাদা মামড়ি বা চটা পড়ে। রোগীর কানের পাশে চোয়ালের বা ঘাড়ের গ্ল্যান্ডে ফুলে উঠে।

ক্রোটন টিগঃ রোগীর অন্ডকোষে শুষ্ক বা রসযুক্ত একজিমা, তাতে ভয়ানক চুলকানি, চুলকাবার সময় বেশ আরাম বোধ, পরে জ্বালা করে, ঠান্ডায় যন্ত্রণার বৃদ্ধি। চুলকানির জন্য রাত্রে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। শিশুদের মাথায় ফুস্কুরীযুক্ত চর্মপীড়া, মামড়ী বা চটা পড়ে, চটা উঠে গেলে রস ঝড়ে। তৎসহ উদরাময় ইহা খুবই উপযোগী।

গ্রাফাইটিসঃ ইহা একজিমা, দাদ, ঘা ও নানা জাতীয় উদ্ভেদাদির উত্তম ঔষধ। ইহার একজিমা বা চর্মরোগে চুলকানি ও জ্বালা থাকে। ক্ষত হতে মধুর ন্যায় আঠালো স্রাব নিঃসৃত হয়। রোগী গৌরবর্ণের মোটা সোটা, কোষ্ঠবদ্ধতা, শীতকাতর ও কুগঠিত নখ ইত্যাদি।

ব্যাসিলিনামঃ ইহা শুষ্ক একজিমা ও দাঁদের জন্য অব্যর্থ মহৌষধ। রোগী বদমেজাজী, শীতকাতর, কোষ্ঠবদ্ধ ব্যক্তিদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে শুষ্ক একজিমা। চুলকালে গমের ভূষির মত আইশ উঠে। চুলকানি যথেষ্ট, কিন্তু রস বা কষ কিছুই বের হয় না।

ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়াঃ ইহার মাথায় ও মুখে এক প্রকার শুষ্ক একজিমা, মামড়ি পড়ে, রসপূর্ণ একজিমা, রস যেখানে লাগে সেখানেই নতুন উদ্ভেদ হয়। উদ্ভেদের উপর দুর্গন্ধযুক্ত মামড়ি, তাতে পোকা জন্মায়, ভয়ানক চুলকায়।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ একজিমা গ্রীষ্মকালে বৃদ্ধি পেলে- কেলি বাইক্রম। অধিক শতি বা অধিক গরমে বৃদ্ধি পেলে- এন্টিম ক্রুড। বসন্তকালে ও বর্ষাকালে বৃদ্ধি পেলে- নেট্রাম সালফ। একজিমা ধীরে ধীরে কমতে থাকলে এবং বর্ষার শেষে বৃদ্ধি পেলে- ডালকামারা।

লক্ষণানুসারে ক্যাল্কেরিয়া কার্ব, হিপার সালফ, সালফার, সিফিলিনাম, রাসটক্স, মার্কসল ব্যবহার করা যেতে পারে।

বায়োকেমিক চিকিৎসাঃ

ক্যাল্কেরিয়া ফ্লেুারঃ শুষ্কযুক্ত একজিমা, ত্বকের উপর থেকে মাছের আইশের মত ছাল বা খোলস উঠায় ইহা উপযোগী। যে সমস্ত ক্ষতের চার দিকে খুব কঠিন তাতে উহা অব্যর্থ।

সাইলিসিয়াঃ সিফিলিস রোগগ্রস্ত ও হাতে পায়ের তলায় দুর্গন্ধযুক্ত ঘামের রোগীদের একজিমা হতে পাতলা জলের মত রস রক্তাদি নিঃসৃত হলে এবং ক্ষতের চার দিক শক্ত। রোগী শীতকাতর, কোষ্ঠবদ্ধ ধাতের হলে উপযোগী।

কেলি মিউরঃ রোগীর ত্বকের উপর দানা দানা আকারের একজিমা, ইহা হতে আটার ভূষির মত খুসকি উঠে গিয়ে সাদা সাদা হয়ে যায়। জিহ্বায় সাদা বা পাংশু ময়লার প্রলেপ থাকলে অধিক কার্যকরী।

পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাঃ সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্নভাবে থাকা দরকার। নোংড়া জামাকাপড় বা বিছানাপত্র ব্যবহার করতে নেই। চর্মরোগ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নোংড়া পরিবেশ হওয়ার কারণে হয়। হাত পায়ের যত্ন নিতে হবে এবং মাঝে মাঝে সাবান জল বা ডেটল জল গায়ে মাখলে উপকার। অপরের কোনও জিনিসপত্র ব্যবহার করা উচিত নয়। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, মাঝে মাঝে শাকসবজি খাওয়া দরকার। কোষ্ঠ পরিস্কার থাকা চাই।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *