Breaking News

আয়রনের কাজ, উৎস এবং অভাবজনিত রোগ

আয়রন বা লৌহ খাদ্য তালিকায় আমাদের একটি অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান। একটি খনিজ পদার্থ। আমাদের প্রতিদিনকার খাদ্য তালিকার মূল খাদ্য উপাদান হলো ছয়টি—শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ ও পানি। আর খনিজ নামক মূল উপাদানটির অন্যতম হলো আয়রন। শরীরের কাজকর্ম সঠিকভাবে হওয়ার জন্য আয়রন জরুরি। আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়। ক্লান্তি ভাব, মাথাব্যথা, হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, অবসন্নতা, ফ্যাকাশে চামড়া, ভঙ্গুর চুল, শ্বাসকষ্ট, ঘুমের অসুবিধা ইত্যাদি আয়রনের ঘাটতির লক্ষণ। আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে; প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আবার অনেক বেশি আয়রনও কিন্তু শরীরের জন্য ভালো নয়। এটি ফ্রি র‍্যাডিকেল তৈরিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এতে লিভার ও হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন নারীর প্রতিদিন ১৫ মিলিগ্রাম আয়রন খাওয়া প্রয়োজন। আর পুরুষের জন্য এটি ১০ মিলিগ্রাম।

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের খাবারের তালিকায় সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনদিন মাংস থাকা জরুরি। এর পাশাপাশি অবশ্যই শাক-সবজি থাকতে হবে, এবং সেসব সবজি যেগুলো আয়রন সমৃদ্ধ। না হলে তার পক্ষে সুস্থ ও সুন্দর হয়ে ওঠা সম্ভব নয়। খাবার যদি সুষম হয় তাহলে ১০-১৫ মি.গ্রা. আয়রন প্রতিদিন পাওয়া সম্ভব, যা থেকে শরীরের প্রয়োজন যথেষ্টভাবে মিটে যায়। কিন্তু খাদ্য তালিকা যদি সুষম না হয় বা যেসব ক্ষেত্রে আয়রনের চাহিদা বেশি, যেমন—মাসিকরত নারী এবং গর্ভবতী মা, তাদের জন্য বাড়তি আয়রনেরও প্রয়োজন।

উৎস (আহারোপযোগী) 

  • প্রাণিজ উৎস যেমন-মাংস, কলিজা, ডিম, টেংরা মাছ, তাপসী মাছ, রুপাপাতিয়া মাছ বা এসব মাছের শুটকি
  • উদ্ভিজ্জ উৎস যেমন-কাঁচা আম, আমচুর, কাল কচু শাক, ফুল কপির পাতা, শালগম পাতা, ডাঁটা শাক এবং অন্যান্য শাক

কাজ 

  • রক্তের হিমেগ্লোবিনের হিম অংশ তৈরীর জন্য অপরিহার্য। হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে অক্সিজেন পুরো শরীরে বাহিত হয়। তাই আয়রনের ঘাটতি হলে হিমোগ্লোবিনের কর্মক্ষমতা কমে যায়।
  • অসংখ্য এনজাইমের অংশ হিসেবে অক্সিডেশন-রিডাকশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
  • জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রন-ট্রান্সফার সিস্টেমের জন্যে লৌহের প্রয়োজন।
  • শক্তি, মাংসপেশির সুগঠন এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যথাযথ কাজ সম্পাদনের জন্য আয়রন প্রয়োজন।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে সাহায্য করে আয়রন।
  •  মায়ের পেটে থাকা, ভ্রুণের মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষেত্রেও আয়রন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আয়রনের অভাবে কি হয়

শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে আয়রন ডিফিসিয়েন্সি অ্যানেমিয়া হয়।এই প্রকারের অ্যানেমিয়া হলে দুর্বল ও ক্লান্ত লাগার পাশাপাশি মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। সাধারণত শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের আয়রনের ঘাটতি জনিত অ্যানেমিয়া হয়ে থাকে। এর ফলে মহিলাদের প্রিম্যাচিউর ডেলিভারি হতে পারে। প্রাণীজ আয়রন ও উদ্ভিজ আয়রন এই দুই ধরণের আয়রন পাওয়া যায়। আয়রনের ঘাটতি পূরণের জন্য এই দুই ধরণের আয়রন ই গ্রহণ করা প্রয়োজন।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *