Breaking News

আমবাত

সংজ্ঞাঃ গায়ে বিচুটি লাগলে যে রুপ চাকা চাকা হয়ে ফুলে উঠে সেইরুপ স্ফীতিকে আমবাত বলে।

কারণঃ
১) এ্যালার্জি থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
২) আপনা হতে হঠাৎ সৃষ্টি হতে পারে।
৩) কাঁকড়া, চিংড়িমাছ, গুরুপাকদ্রব্য ভোজন করলে।
৪) কোষ্ঠকাঠিন্য, অজীর্ণতা, ঠান্ডা লাগার কারণে।
৫) কোন কোন খাদ্যদ্রব্যের প্রতি মানুষের একপ্রকার প্রকৃতিগত বিরাগ থাকে; সেইরুপ খাদ্য উদরে প্রবেশ করা মাত্রই আমবাত বের হয়।
৬) এছাড়াও কীট পতঙ্গের দংশন, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি সেবন।
৭) হুক ওয়ার্ম বা ফাইলেরিয়ার ন্যায় ব্যাধি জনিত কারণে এই জাতীয় উদ্ভেদ বের হতে পারে।

লক্ষণঃ
১) দেহের কোনও অংশ হঠাৎ চুলকাতে শুরু করে এবং চুলাকানি খুব বেশী হয়।
২) আক্রান্ত স্থান চাকা চাকা হয়ে ফুলে উঠে এবং এই চাকা চাকা ভাব কখনও মিলিয়ে যায় বা স্থান পরিবর্তন করে।
৩) সেখানে লাল হয়ে ফুলে উঠে সেখানে চুলকায়।
৪) শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্থানে বোলতা কামড়ানোর ন্যায় চাকা হয়ে ফুলে উঠে এবং চুলকানি প্রধান লক্ষণ।
৫) কখনও কখনও খুব যন্ত্রণা হয় আবার কখনও জ্বর ও বমির লক্ষণ প্রকাশ পায়।
৬) ইহা তরুণ ও পুরাতন উভয় আকার হতে পারে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ

একোনাইটঃ আমবাতের সাথে জ্বর জ্বর থাকে। গায়ের চামড়া লাল, উত্তপ্ত, স্ফীতি, শুষ্ক, জ্বালাকার। লাল লাল গুটিকা, হামের ন্যায় উদ্ভেদ, খসখসে ত্বক। পিপিলিকা চলার ন্যায় অনুভূতি, অবশভাব।

এপিস মেলঃ লাল চকচকে ফোলাসহ হুলবিদ্ধ বেদনা, জ্বালা। স্পর্শকাতরতা, ফোলা, গোলাপী বর্ণ। হঠাৎ সারা দেহ ফুলে উঠে। শিশু ঘ্যান ঘ্যান করে কাঁদে।

আর্টিকা ইউরেন্সঃ কাঁকড়া, চিংড়ি মাছ, ডিম ইত্যাদি আহার হেতু। চুলকানি, জ্বালা, স্ফীতি, অস্থিরতা, শোথভাব। চর্ম শুষ্ক, খসখসে, আশঁযুক্ত। মাথার উপর হাত রেখে ঘুমায়, পায়ের ডিমে খিল ধরা।

রাসটক্সঃ জলে ভিজে, চিংড়ি, কাঁকড়া ইত্যাদি আহার হেতু। লাল, স্ফীতি, অত্যন্ত চুলকানি, ফোস্কাবৎ। গ্রন্থি স্ফীতি, কোশিক ঝিল্লীর প্রদাহ, অস্থিরতা।

নুফার লুটিয়াঃ শরীরের নানা স্থানে লাল বর্ণের চাকা চাকা উদ্ভেদ বের হয়, তাতে অত্যন্ত চুলকানি, রোগীর প্রাতঃকালীন উদরাময়, মল ত্যাগকালে অসাড়ে শুক্র ক্ষরণ হয় এবং পুরুষত্বহীনতা বিদ্যমান (এসিড ফস)।

এছাড়াও লক্ষণানুসারে ডালকামার, আর্সেনিক, সালফার, পালসেটিলা, এন্টিম ক্রুড, ইগ্নেশিয়া, ব্রায়োনিয়া, রিউমেক্স, সোরিনাম, এনাকার্ডিয়াম, ফ্রাগেরিয়া।

বায়োকেমিক চিকিৎসাঃ

নেট্রাম সালফঃ পিত্তাধিক্য জনিত এলার্জি বা আমবাত রোগে ইহা অতি উৎকৃষ্ট ঔষধ। রোগীর মেজাজ অত্যন্ত খিটখিটে এবং বর্ষা বা আর্দ্র আবহাওয়ায় রোগের লক্ষণাদির বৃদ্ধি ঘটে।

এছাড়াও লক্ষণানুসারে ফেরাম ফস, নেট্রাম মিউর সামান্য গরম জলে সেবন করিলে উপশম হয়।

পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাঃ দেহের ত্বকে লেবু ঘষলে উপকার। লেবু জলে গোসল করিলে উপকার। উদ্ভেদ বের হলে গরম জলে গোসল, ভাল করে শরীর ধৌত করতে হবে। গুরুপাক, ঘৃত পাক, উগ্রমশলাযুক্ত খাদ্য নিষেধ। যে খাদ্য বস্তুর প্রতি রোগীর অনিহা তা কখন খাবেন না। টক, চিংড়ি, কাঁকড়া, পুইশাক, সিম খাওয়া নিষেধ। শরীরে সাবান ও তেল মাখা নিষেধ।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *