Breaking News

আমবাতের(urticaria) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

আমবাত কি ?
শরীরের স্থানে স্থানে মশার কামড়ের মত দাগরা দাগরা হইয়া ফুলিয়া উঠে,অত্যন্ত চুলকায়,আবার আপনা আপনি অদৃশ্য হইয়া যায়।আমবাত হলে ত্বকে অদ্ভুত আকারের লালচে দাগ সৃষ্টি হয়।
আমবাতের কারণ ঃআমবাত ছড়িয়ে পড়ার কারণ নির্ণয় করাটা কঠিন।আমবাত হওয়ার সম্ভাব্য কারণ সমূহ ।
১। ঘাম ঃব্যায়াম করলে, অনেক বেশি ঘাম নির্গত হলে বা হট শাওয়ার নিলে হাইবস হতে পারে। এটি শুরু হয় বুকে ও ঘাড়ে এবং ছড়িয়ে পড়ে মুখ ও পিঠ পর্যন্ত।
২। ঔষধ ঃপেনিসিলিনের মত অ্যান্টিবায়োটিক এবং ইবোপ্রুফিন ও অ্যাসপিরিন এর মত অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ঔষধের কারণেও আমবাত হতে পারে। বস্তুত এই ঔষধগুলোর একটি পিল সেবন করার ১ ঘন্টার মধ্যেই হাইবস বিকাশ লাভ করতে পারে।
৩। টাইট-ফিটিং জামা-কাপড় পড়লে ঃকোনকোন মানুষেরত্বকে খুববেশী চাপ পড়লেও আমবাত হতে পারে।
তাই আঁটসাঁট জামা বা আন্ডারওয়ার পড়া বাদ দিয়ে লুজ ফিটিং পোশাক পরুন।
৪। অটোইমিউন ডিজিজ ঃকখনো কখনো থাইরয়েড ও লুপাসের মত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেও আমবাত হতে পারে।যদি আপনার হাইবস অনেকদিন যাবৎ থাকে তাহলে আপনার অটোইমিউন ডিজিজ আছে ধরে নেয়া যায়।
৫। অ্যালার্জেন্স ঃএলার্জি সৃষ্টিকারী ফুলের রেনু,ধুলিকনা,মাইটের সংস্পর্শেও আমবাত হয়।পরিবেশগত পরিবর্তন
যেমন- অত্যধিক গরম ও ঠান্ডার ফলেও আমবাতের প্রকোপ দেখা দিতে পারে।
৬। স্ট্রেস ঃআমবাত হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে ইমোশন।এর কারণ সম্ভবত স্ট্রেসের ফলে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ত্বকের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সাধারণত স্ট্রেসের ফলে যে আমবাত হয় তা অল্প সময় স্থায়ী হয়।
৭। অ্যালকোহল ঃঅ্যালকোহল সেবন করলে আমবাতের আবির্ভাব হতে পারে। আবার কিছু খাবার যেমন- খোলসযুক্ত মাছ, ডিম, বাদাম এবং ফুড ডাই এর জন্য আমবাতের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
৮।ইনফেকশন ঃসাধারনত শিশুদের ঠান্ডা বা ভাইরাস ইনফেকশনের কারণেও আমাবাত হয়।
এছাড়াও অধিক ঠান্ডা লাগা ,ঘর্মাক্ত শরীরে স্নান করা, চিংড়ি,কাঁকড়া,গো-মাংস আহার করা বা পরিপাক ক্রিয়ার গোলযোগ হেতু এই পিড়া হইয়া থাকে ।

আমবাতের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধসমুহঃ
এপিস,আর্সেনিক,ক্যালকেরিয়া কার্ব,কষ্টিকাম,হিপার সাল্ফ,লিডাম পাল,নেট্রাম সাল্ফ,রাসটক্স,সালফার,আর্টিকা উইরেন্স,থুজা ইত্যাদি।
আমবাতের ঔষধ নির্বাচন নিদেশিকা ঃ
বাত ও আমবাত পর্য়ায়ক্রমে—————-আর্টিকা ইউরেন্স।
হাাঁপানি ও আমবাত পর‌্যায়ক্রমে———–ক্যালাডিয়াম সেগ।
জ্বরে শীতের পুর্বে আমবাত——হিপার সাল্ফ।
জ্বরে শীত অবস্হায় আমবাত——আর্সেনিক,নেট্রাম মিউর,রাসটক্স।
জ্বরে শীতের পরে আমবাত ——–ইলাটেরিয়াম।
জ্বর চাপা পরে আমবাত————ইলাটেরিয়াম।
জ্বরে উত্তাপ অবস্হায় আমবাত———এপিস,ইগ্নেসিয়া,রাসটক্স,সালফার।
জ্বরে উত্তাপ অবস্হায় ও ঘর্মাবস্হায় আমবাত—রাসটক্স।
ঘর্মাবস্হায় আমবাত ————-এপিস রাসটক্ম।
ঠান্ডা বাতাসে আমবাতের বৃদ্ধি———-এসিড নাই,রাসটক্স,সিপিয়া।
ঠান্ডা বাতাসে আমবাতের উপশম——-ক্যালকেরিয়া কার্ব।
ঘুম ভাঙ্গিলেই বৃদ্ধি————–আর্টকো ইউরেন্স।
মাসিকের পূর্বে আমবাত—————কেলি কার্ব।
গোসল করার পরে আমবাতের বৃদ্ধি—ফসফরাস,আর্টিকা ইউরেন্স,বোভিষ্টা।

আমবাতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সদৃশ ঔষধ সমুহের পার্থক্য বিচার ঃ

রাস টক্স (Rhus tox): – বৃষ্টির জলে ভিজিয়া,ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লাগিয়া,ভিজা সেঁতসেঁতে স্থানের কারনে আমবাত হলে রাস টক্স অব্যার্থ ্ সেবন বিধিঃ- শক্তি 6 বা 30 দুই তিন ঘন্টা অন্তর।

এপিস মেল (Apis mel):- গোলাপী রংয়ের উদ্ভব সমস্ত শরীরে ছড়াইয়া পড়ে,পিপাসা হীন রোগী,দাগড়া দাগড়া হইয়া ফুলিয়া উঠে,চুলকায় ,হুল ফুটানো বেদনা ও জ্বালা।জ্বালা গরমে বৃদ্ধি।সন্ধায় বৃদ্ধি হইলে এই ঔষধ বিফল হয়না।
সেবন বিধিঃ- শক্তি 3,6 বা 30 দুই তিন ঘন্টা অন্তর।এপিস মেল ব্যবহার কালীন পেয়াজ খাওয়া নিষিদ্ধ।

আর্টিকা ইউরেন্স (Urtica Urens):- সর্ব প্রকার আমবাতে ইহা উপকারী।চাকা চাকা হইয়া ফুলিয়া উঠে,চুলকায়, জ্বলে,কাঁটা ফুটা ন্যায় যন্ত্রনা করিতে থাকে।ক্রমাগত হাত বুলাতে হয়।ঘুমালে যন্ত্রনা নিবৃত্তির রোগীর জন্য উপযোগী।
সেবন বিধিঃ- শক্তি Q বা 3x ৪-৫ বার।

হাইড্রাসটিস (Hydrastis):- নতুন বা পুরাতন উভয় আমবাতে ইহা একটি কার্যকরী ঔষধ।বিশেষ করে পুরাতন আমবাতে ইহা কিছু দিন সেবন করিলে আরোগ্য হয়।আর্টিকা ইউরেন্স ও হাইড্রাসটিস দিনে তিন/চার বার পর্যায়ক্রমে সেবন করিলে আমবাত আরোগ্য হয়।
সেবন বিধিঃ- শক্তি Q বা 3x তিন চার ফোটা অর্ধ ছটাক জল সহ দিনে তিনবার ।

ক্লোরালাম (Cholorahm):- চাকা চাকা হইয়া ফুলিয়া উঠে, চুলকায়, চুলকানি দিন অপেক্ষা রাতে বৃদ্ধি।ঠান্ডায় বৃদ্ধি গরমে উপশম,চুলকানির যন্ত্রনায় রোগী ঘুমাতে পারে না ইত্যাদি লক্ষণে ইহা উপকারী।
সেবন বিধিঃ- শক্তি 200 বা 1m সকাল বিকাল দিনে দুই মাত্রা।

ডালকামারা (Dulcamara):- ভিজা ঠান্ডা স্থানে বসবাসের ফলে আমবাত হইলে ডালকামারা উপকারি।স্ত্রীলোকদের ঋতু স্রাবের পূর্বে আমবাতে ইহা আমোঘ।পুরাতন আমবাত শীতকালে বৃদ্ধি গৃষ্মকালে উপকার হয়।
সেবন বিধিঃ- শক্তি 6 বা 30 তিন ঘন্টা অন্তর ।পুরাতন রোগে 200, 1m বা আরো উচ্চ শক্তি সকাল বিকাল দুই মাত্রা।
হাইগ্রোফিলা (Hygrophila):- শরীরের বিভিন্ন স্থানে আমবাত বা আমবাতের মত উদ্ভেদ, উদ্ভেদ গুলো লাল বর্নের ক্ষুদ্র ক্ষদ্র ঘামাচির মত হইয়া উঠে।গ্রীষ্মকালে গরমে পীড়ার বৃদ্ধিতে ইহা অমোঘ।
সেবন বিধি ঃ- শক্তি Q, 3x বা 6 তিন চার বার ।

ফ্যাগোপাইরাম (Fagopyrum):- শরীরের বিভিন্ন স্থানে বা সর্বাঙ্গে মশার কামড়ের মত ফুলিয়া উঠে চুলকালে লাল দাগ হইয়া ফোলে।সর্বাঙ্গে চুলকানিতে রোগী অস্থির।ঠান্ডা বাতাসে বা ঠান্ডায় উপশম।
সেবন বিধিঃ- শক্তি 6 বা 30 দুই তিন ঘন্টা অন্তর।

আর্সেনিক এলব (Arsenic Alb):- নতুন বা পুরাতন উভয় প্রকার আমবাত চাকা চাকা হইয়া ফুলিয়া উঠে।অত্যন্ত চুলকায় চুলকানির পর জ্বালা, জ্বালা ঠান্ডায় বৃদ্ধি গরমে উপশম হইলে ইহা অব্যার্থ।
সেবন বিধি ঃ৩০ বা ২০০ শক্তি দিনে দুইবার,পুরাতন রোগে আরো উচ্চ শক্তি।

বোভিষ্টা(Bovista) উদরাময়ের সহিত আমবাত, অর্থাৎ উদারাময় দেখা দিলে আমবাত দেখা দেয় এই ধরনের রোগীর জন্য বোভিষ্টা উপকারী।
সেবন বিধিঃ৬ শক্তি বা ৩০ শক্তি দিনে তিন বার ২০০ শক্তি দিনে দুই বার।

আমবাত চিকিৎসায় ব্যবহৃত বাইয়োকেমিত ঔষধসমুহ ঃ

ফেরম ফস :চাকা চাকা হয়ে ফুলে উঠে,লাল বর্ণ ধারন করে এবং প্রচুর চুলকায়,জ্বলে।কোষ্ঠবদ্ধ,জিহ্বা সাদা বর্ণের প্রলেপ যুক্ত রোগীর জন্য ফেরম ফস উপযোগী।ফেরম ফসের সাথে কেলি মিউর পর্যায়ক্রমে ব্যবহারে উত্তম ফল পা্ওয়া যায়।
নেট্রাম মিউর ঃপুরাতন আমবাতে িএই ঔষধটি উত্তম ফলদায়ক।লবম প্রিয় রোগীর ক্ষেত্রে আরো উপযোগী।

পথ্য ও আনুষাঙ্গিক ব্যবস্হা ঃরোগীর রোগ বৃদ্ধি হলে গরম পানিতে ধৌত করা প্রয়োজন।গরমে বৃদ্ধি হলে ঠান্ডা পানিতে ধৌত করা উচিত।গুরুপাক দ্রব্য,চিংড়ি,কাঁকড়া,মাংশ,হাসের মাংশসহ সকল এলার্জিক খাবার ত্যাগ করা উচিত।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *