Breaking News

আচিঁল

সংজ্ঞাঃ আচিঁল সাধারণ চর্মের উপর জন্মে। আচিঁলের জন্য মানুষ তেমন কোনও কষ্ট বা যন্ত্রণা বোধ হয় না। দেখতে বিশ্রী দেখায় ও দৈহিক শোভা বিনষ্ট করে।

কারণঃ
১) সিফিলিস রোগ চাপা পড়ে আচিঁল সৃষ্টি হয়।
২) লিভারের গোলযোগের কারণে আচিঁল সৃষ্টি হতে পারে।
৩) আবার কখনও নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়।

লক্ষণঃ
১) আচিঁল দেহের নানা স্থানে দেখা দিতে পারে।
২) কোন কোন সময় এটা থেকে রস বা কষ জাতীয় পদার্থ নির্গত হয়।
৩) কিছু কিছু আচিঁল সামান্য আঘাতেই রক্তপাত ঘটায়।
৪) আচিঁল দেখতে বিভিন্ন প্রকৃতির হতে পারে। যেমন- এবড়ো- থেবড়ো, মোচার মতো, এটা অনেক সময় খুব শক্ত হয় আবার ভেঙ্গে যায়।
৫) আচিঁল হাটু, মুখমন্ডল, ঠোট, হাত পা, জননেন্দ্রিয়ে দেখা দিতে পারে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ

এসিড নাইটঃ রোগীর শরীরের যে কোন স্থানেই আচিঁল হউক না কেন; উহা যদি ভেজা ভেজা, ফুল কপির ন্যায়, শক্ত, সামান্য স্পর্শে বা নাড়া চড়ায় প্রচুর রক্ত বের হয় এবং প্রস্রাবে অত্যন্ত কুট বা ঝাঝালো দুর্গন্ধ থাকে (সোরিনাম) তা হলে প্রযোজ্য।

কষ্টিকামঃ আচিঁলের জন্য মত কষ্টিকামও অত্যন্ত কার্যকরী ঔষধ। কষ্টিকামের আচিঁল ছোট ছোট ডুমুরের মত, নিরেট মসৃণ বা সূঁচালু প্রকৃতির। ইহা সাধারণতঃ মুখে, পেটের উপরে, পায়ে, চোখের পাতায় এবং আঙ্গুলের ডগায় বেশী হয় (হাতের তলায় ও আঙ্গুলের আচিঁল হলে- নেট্রাম মিউর)। কষ্টিকামের রোগী অত্যন্ত ভীতু, সর্বদাই মন্দভাব ও দুর্ঘটনা বিষয় ভাবে, প্রস্রাবের বা শ্বাস যন্ত্রের কোন না কোন পীড়া থাকলে, ইহা অধিক উপযোগী।

থুজাঃ ইহা আচিঁলের শ্রেষ্ট ঔষধ। থুজার আচিঁল ফুল কপির ন্যায় থোবড়ানো বা ফাটা ফাটা, বৃহৎ দানাযুক্ত বা ডুমুরের মত বৃত্তযুক্ত হয়ে থাকে। আচিঁল শরীরের যে কোন স্থানে বিশেষতঃ নাকের উপর, মলদ্বারে, জরায়ুর মুখে, যৌনির উপর, কানের ভিতর প্রভৃতি স্থানে দেখা যায়, উহা রাগড়ালে রক্ত বের হয়(এসিড নাইট)। শরীরের নানা স্থানে বাদামী বর্ণের দাগ ও প্রমেহ রোগ থাকলে ইহা অধিক উপযোগী।

ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়াঃ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ডুমুর বা ফুলকপির ন্যায় ছোট বড় আচিঁলে ইহা উপকারী। যুবকগণ স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক উপায়ে কামরিপু চরিচার্থ করতে চিন্তিত। ইহা চোখের পাতায় অঞ্জনি বা টিউমারে উত্তম কার্যকরী।

ক্যাল্কেরিয়া কার্বঃ আঙ্গুলের পাশে আচিঁল, মুখমন্ডলে, গ্রীবায় এবং শরীরের উপরাংশের সম্পূর্ণ আচিঁল। গন্ডমালা ধাতুগ্রস্ত ব্যক্তি। ঘর্মপ্রবণ, হাইড্রোজেনোয়েড ধাতুবিশিষ্ট।

এন্টিম ক্রুডঃ আচিঁল শক্ত এবং সহজে ভেঙ্গে যায়। দুটি লক্ষণ দেখতে হবে, মানসিক ও পাকাশয়িক অত্যন্ত ক্রোধ, শীর্ণতা, জিহ্বার উপর পুরু লেপ ময়লা প্রলেপ।

আচিঁল দুর করার অভিজ্ঞতাঃ আচিঁল সব সময় হাত দিয়ে নাড়লে বা টিপলে বৃদ্ধি পায়। আচিঁলের গোড়ায় চুল বেঁধে রাখলে অনেক সময় আচিঁল খসে পড়ে। এনাগেলিস এবং থুজা মাদার টিংচার বাহ্যিক ভাবে আচিঁলে ব্যবহার করলে আচিঁল অবশ্যই খসে পড়বে। আচিঁলের গোড়ায় থুজা মাদার প্রয়োগে উপকার পাওয়া যায়। থুজার সাথে পর্যায়ক্রমে ম্যানেসিয়াম সালফ ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। থুজা মাদার এর সাথে সমপরিমাণ ক্রোমিক এসিড ও জল মিশ্রিত করে আচিঁলের উপর লাগালে আঁচিল কালো হয়ে ধীরে ধীরে খসে পড়ে। এছাড়াও ডাইলিউট নাইট্রিক এসিড এক ড্রাম এবং চার আউন্স পানির সাথে মিশিয়ে বার্হ্যিক ব্যবহার করিলে উপকার পাওয়া যায়।

বায়োকেমিক চিকিৎসাঃ

নেট্রাম মিউরঃ হাঁতের তালুতে আচিঁল ও আঙ্গুলে অসংখ্য আচিঁল, উহা ভেজা ভেজা থাকে। রোগীর কোষ্ঠবদ্ধতা, লবণ বা লবণাক্ত খাদ্য খুবই প্রিয়। শৈত্যবিলাসী, রুক্ষ্ম মেজাজ, শরীর অপেক্ষা ঘাড়-গলা বেশী সরু ইত্যাদি লক্ষণে ইহা উপযোগী।

নেট্রাম সালফঃ রোগীর গুহ্যদ্বারে ও লিঙ্গমুন্ড আচিঁল। পুরাতন সিফিলিস রোগী, অত্যন্ত গরমকাতর ও পিত্তপ্রধান ধাতুগ্রস্থ ব্যক্তিদের পীড়ায় ইহা অতিশয় উৎকৃষ্ট ঔষধ। ইহার লক্ষণাবলী বর্ষার বা আর্দ্র আবহাওয়ায় এবং স্যাঁত স্যাঁত স্থানে বসবাস করায় বৃদ্ধি পায়।

About The Author

DR. MOHAMMAD SHARIFUL ISLAM

নামঃ- ডা. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম হোমিও হল সংক্ষিপ্ত নামঃ এস এই হোমিও হল

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *